শৈশবে অভিনয়ের প্রতি ঝোঁক থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছিলেন পূর্ণিমা। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে রিয়াজের বিপরীতে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার। ১৯৯৮ সালের ১৫ মে মুক্তি পায় সিনেমাটি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি পূর্ণিমাকে।
প্রায় ২৮ বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন অসংখ্য সিনেমায়, আর দুহাতে কুড়িয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো যেন তিনি চিরসবুজ দর্শকের মনে। শনিবার (১১ জুলাই) জনপ্রিয় এই তারকার জন্মদিন।
এবারের জন্মদিনকে স্মরণীয় করে রাখতে চমকপ্রদ আইডিয়া ও জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চ্যানেল আই। মূল ফটক থেকে স্টুডিও পর্যন্ত পূর্ণিমার প্রায় তিন দশকের নানা ভঙ্গিমার ছবির কাটআউট দিয়ে সাজানো হয় চ্যানেল আই করিডোর। বিছানো হয় লাল গালিচা। লাল গালিচায় হেঁটে এইসব কাটআউট দেখতে দেখতে তিনি যখন স্টুডিওতে পৌঁছান তখন তার জন্য অপেক্ষা করছিল চমক। স্টুডিওতে অপেক্ষা করছিলেন এই সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী কোনাল।
তাকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এই দুই তারকা। পূর্ণিমার কাছে কোনালের অনেক প্রশ্ন। অভিনয়ের শুরু, সেরা চলচ্চিত্র, প্রিয় গান, প্রিয় নায়ক প্রিয় খাবার এবং যে কথা কখনও বলা হয়নি পূর্ণিমার সে কথাও উঠে এলো আলাপচারিতায়।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে রোমান্টিক ও পরিপাটি ইমেজের নায়িকা হিসেবেই দর্শকের কাছে পরিচিত চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। তবে এবার সেই পরিচিত গণ্ডি ভেঙে সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি জানান, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও কখনো নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করার সুযোগ পাননি। তাই ভবিষ্যতে এমন একটি শক্তিশালী চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যা দর্শকদের মনে গভীর ছাপ ফেলবে এবং অভিনেত্রী হিসেবে তার নতুন এক দিক তুলে ধরবেন।
পূর্ণিমা বলেন, “সবাই আমাকে রোমান্টিক লুক ও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আমাকে এর বিপরীতে দেখলে খুব ভালো হয়। আমার খুব ইচ্ছে নেগেটিভ চরিত্র, ভিলেন টাইপের চরিত্রে কিছু করতে চাই। সিনেমা দেখে যেন ওই চরিত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা হয়। আমাকে নিয়ে এই ধরনের চরিত্র কেউ চিন্তাও করেনি আজ পর্যন্ত।”
পূর্ণিমার প্রথম ব্যবসাসফল সিনেমা ছিল ‘যোদ্ধা’। এরপর একে একে তার ঝুলিতে জমতে থাকে জনপ্রিয় সব ছবি– সন্তান যখন শত্রু, সুলতান, পিতা-মাতার আমানত, হৃদয়ের কথা, বিয়ের প্রস্তাব, লোভে পাপ পাপে মৃত্যু, শাস্তি, সুভা, মনের মাঝে তুমি, বাঁধা, পরাণ যায় জ্বলিয়া রেসহ আরো অসংখ্য।
সমসাময়িক প্রায় সব তারকার বিপরীতে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয় জয় করেছেন পূর্ণিমা। রিয়াজ, মান্না, রুবেল, ফেরদৌস, শাকিব খান, আমিন খান, অমিত হাসানসহ অনেকেরই নায়িকা হয়েছেন তিনি। শুধু সিনেমা নয়, নাটকেও তিনি পেয়েছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আফজাল হোসেন, মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, মাহফুজ আহমেদ, অপূর্বের মতো তারকাদের।
কাজী হায়াত পরিচালিত ‘ওরা আমাকে ভালো হতে দিলো না’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন পূর্ণিমা।







