চট্টগ্রাম থেকে: স্লেজিংয়ের রাজা বলা হয় অস্ট্রেলিয়াকে! তাদের খেলোয়াড়দের থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও। মিরপুরে হারের পর চট্টগ্রামে জিততে মরিয়া অজিরা চতুর্থ দিনে একটু বেশিই আক্রমণ করেছে মুখের ভাষায়। আম্পায়ারের সামনেই বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমকে বাজে কথা বলেছেন ম্যাচসেরা নাথান লায়নও। মুশফিক সঙ্গে সঙ্গেই নালিশ জানিয়েছেন আম্পায়ারকে।
দলীয় পঞ্চাশের আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়া বাংলাদেশকে তখন পথ দেখাচ্ছিল মুশফিক-সাব্বির জুটি। বোলিং আক্রমণে লায়ন। মুশফিকের সঙ্গে তর্ক হচ্ছিল। পরে দেখা যায় মুশফিক আম্পায়ার ইয়ান গৌল্ডের সঙ্গে অনেকক্ষণ কথা বলছেন। সেখানে কী ঘটেছিল ম্যাচ শেষে জানা গেল মুশফিকের কথাতেই।
‘মাঠে তো স্বাভাবিক একটু কথাবার্তা হয়ই। ওরা সব সময়ই বলতে (স্লেজিং) থাকে। ও (লায়ন) আম্পায়ারের সামনেই জোরে বলছিল। সেটাই আম্পায়ারকে বলছিলাম। আম্পায়ারের সামনে যদি এভাবে বলে, আমরা আর কার কাছে যাব। এটাই তাকে মনে করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আম্পায়ার বলেছে, হ্যাঁ, এটা আমি শুনেছি। আমি চেষ্টা করব কথা বলার।’
পুরো সিরিজেই ব্যাট-বলের ক্রিকেটের সঙ্গে সমানতালে হয়েছে কথার লড়াইও। অজিদের ক্রিকেট সংস্কৃতির সঙ্গে ভালোভাবেই জড়িয়ে আছে স্লেজিংয়ের বিষয়টি। প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবে ঘায়েল করতে মুখের ব্যবহারে তাদের জুড়ি মেলা ভার। অবশ্য বাংলাদেশও ছেড়ে কথা বলেনি। মাঠে স্লেজিং চলেছে সমানে সমানে। অজিদের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ ড্র (১-১) করতে পারার প্রাপ্তির সঙ্গে এটিকেই আরেকটি প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন মুশফিক।
‘জানতাম ওরা শুধু ব্যাট-বল না, শারীরিক ভাষায়ও বলবে। যেভাবে মাঠে চাপ প্রয়োগ করে, আগ্রাসন দেখায়, আমরাও চেষ্টা করেছি ওভাবেই খাপ খাইয়ে চলার। প্রথম টেস্টে খুব ভালো করেছি। বোলার বলেন, ব্যাটসম্যান বলেন, সবাই চেষ্টা করেছি। তাদের ওই জায়গাটায় মুখে মুখ লেগে ঠিক ওরকমভাবেই চ্যালেঞ্জ করেছি। এটা বড় একটা প্রাপ্তিও বলতে পারেন।’
ছবি: সাকিব উল ইসলাম







