জানাজা ও সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। মঙ্গলবার বাদ আসর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে কৃতি সাবেক ফুটবলারকে।
মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব প্রাঙ্গণে মঙ্গলবার সকালে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা গার্ড অব অনার ও দ্বিতীয় নামাজে জানাজার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনে (বাফুফে)। সেখানে হয় তৃতীয় জানাজা। দুপুর দুইটায় জাতীয় প্রেসক্লাবে হয় চতুর্থ জানাজা। এর আগে সোমবার ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছিল জাকারিয়া পিন্টুর মরদেহ।
কিছুদিন ধরেই বেশ অসুস্থ ছিলেন স্বাধীন বাংলা ফুটবল দলের অধিনায়ক জাকারিয়া পিন্টু। সোমবার ৮১ বছর বয়সে চলে যান, ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বার্ধক্যজনিত ও নানা রোগ নিয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন জাকারিয়া পিন্টু। হৃদযন্ত্র, কিডনি, লিভার সমস্যায় ভুগছিলেন। সোমবার দুপুর ১২টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন, জানিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। পরিবারে এক ছেলে ও তিন মেয়ে রেখে গেছেন তিনি।
জাকারিয়া পিন্টুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফুটবলাররা ভারতে প্রদর্শনী ম্যাচের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের জন্য তহবিল গড়েছিলেন। পরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে বাংলাদেশের অভিষেক হয় ১৯৭৩ সালে। মালয়েশিয়ায় মারদেকা কাপে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কৃতি এ ডিফেন্ডার। ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে ক্রীড়া বিভাগে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালে জাকারিয়া পিন্টুর নেতৃত্বে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ১৬টি ম্যাচ খেলে স্বাধীন বাংলা ফুটবল দল ১২টিতে জিতেছিল। ম্যাচগুলোর টিকিট বিক্রি থেকে প্রাপ্ত অর্থ তারা মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের তহবিলে দিয়েছিল।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে তিনি সংগঠক হয়েছিলেন। ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের পরিচালক পদে কাজ করেছেন।
তার আগে দীর্ঘদিন মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাকারিয়া পিন্টু। ১৯৪৩ সালের ১ জানুয়ারি নওগাঁয় জন্ম নেয়া কিংবদন্তি ফুটবল শুরু করেছিলেন পঞ্চাশের দশকের শেষদিকে। ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৭৫ সালে অবসরের আগ পর্যন্ত টানা খেলেছেন মোহামেডানে। ক্লাবের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ডাগআউট সামলেছেন জাতীয় দলেরও।








