কক্সবাজার সৈকতে পর্যটকদের সমুদ্র দূষণ, প্লাস্টিক, পরিবেশ প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র সংরক্ষণের ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে কক্সবাজার সৈকতে নির্মাণ করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক দানব ভাস্কর্য। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনিক সহযোগিতায় প্লাস্টিকের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার প্রত্যয়ে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ প্লাস্টিক ভাস্কর্য দানবটি তৈরি ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে।
বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সকালে এই দানবাকৃতির ভাস্কর্যটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
জানা যায়, ১০ টন প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে এক মাস ব্যাপী সময় নিয়ে ৬২ ফুটের বড় প্লাস্টিক দানবটি তৈরি করা হয়। সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে এ দানবের প্রদর্শনী চলবে চার মাস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক দল শিক্ষার্থী এক মাস ধরে তৈরি করেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্লাস্টিক দানব ভাস্কর্যটি।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়িতে বিধংসী মূর্তিরূপে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা বিশ্বের সর্ববৃহৎ প্লাস্টিকের রোবট দানবটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন কক্সবাজার আগত পর্যটক ও স্থানীয়রা।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বোর্ডের সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কক্সবাজার ও সেন্টমার্টিন সৈকত উপকূল থেকে সংগৃহিত ১০ মেট্রিক টন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের এক দল শিক্ষার্থী গত ৮ নভেম্বর থেকে এটি নির্মাণের কাজ শুরু করে। তিন ডিসেম্বর নির্মাণ কাজ চূড়ান্ত হয়। ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সচেতন করার পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণ প্রতিরোধে মানুষ যেন প্লাস্টিকের এই দানবটি দেখে শিক্ষা নিতে পারে সেই লক্ষ্যে আমাদের এই আয়োজন। দানবটি আগামী ৪ মাসব্যাপী সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে বলেও জানান তিনি।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্থানীয় সমন্বয়ক মোহাম্মদ মোবারক বলেন, বিশাল আকৃতির আকাশছোঁয়া দানব। যার উচ্চতা ৬২ ফুট। এবার দানবটি এসেছে ভয়ংকর মূর্তিরূপ ধারণ করে, তার সঙ্গে বিস্তৃত বালিয়াড়ির সৈকতে দাঁড়িয়ে রয়েছে আরও দুটি ছোট আকৃতির দানব। যাদের উচ্চতাও ১৫ ফুট করে। আমরা চাই মানুষ, সাগরদুষণ, প্লাস্টিক পরিবেশ ও প্রকৃতির ব্যাপারে সচেতন হোক। তারা যেন সৈকতে প্লাস্টিক নিয়ে না আসে। সেন্টমার্টিন দ্বীপকে প্লাস্টিক মুক্ত রাখতে এখান থেকে যেন সবাই শিক্ষা নেয়।
রক্ত-মাংস ও প্রাণহীন ভাস্কর্য তৈরিতে অংশ নেওয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আবির কর্মকার ও নির্ঝর বলেন, আমরা এক মাস কষ্ট করে এটি তৈরি করেছি। আমরা চাই আমাদের এই কাজের মাধ্যমে মানুষ প্লাস্টিকের ব্যাপারে সচেতন হোক। যদি ১০ জন মানুষও এখান থেকে শিক্ষা নেয় তাহলে আমাদের কষ্ট সার্থক হবে।

ঢাকার ধামরাই থেকে আসা পর্যটক মনিরা, মহুয়া ও আফরোজা বলেন, প্রথমে আমরা দূর থেকে দেখে ভয় পেয়েছিলাম। কাছে এসে দেখি একটি প্লাস্টিকের দানব। দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা প্লাস্টিকের ব্যাপারে এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারব।
তাদের মতো অনেক পর্যটককে দেখা গেল এই প্লাস্টিকের ভাস্কর্য ঘুরে ঘুরে দেখতে।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের গভর্নিং বডির সদস্য মো. জামাল উদ্দিন বলেন, প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিন ও কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই সমাগম ঘটে হাজারো পর্যটকের। যারা সৈকতের বালিয়াড়ি ও সাগরের পানিতে ফেলছে প্লাস্টিক পণ্য সামগ্রীর বর্জ্য। এতে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে দূষণ, হুমকির মুখে পড়ছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকাও।
মূলত, ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সচেতনতার পাশাপাশি সমুদ্রের দূষণ প্রতিরোধে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছি আমরা। তবে আমাদের সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে জেলা প্রশাসন।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বলেন, প্লাস্টিকের ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন জেলা প্রশাসনের সাথে কাজ করছে। তার অংশ হিসেবে এই আয়োজন। এর মাধ্যমে কক্সবাজারে আসা পর্যটক এবং স্থানীয়রা প্লাস্টিকের ব্যাপারে সচেতন হবে।
২০২২ সালে সর্বপ্রথম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ৩৫ ফুট উচ্চতার প্লাস্টিক দানব নির্মাণ করা হয়েছিল। এছাড়া দানবটির প্রদর্শনীর পাশাপাশি সৈকতের সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টে স্থাপন করা হয়েছে প্লাস্টিক এক্সেস সেন্টার। যেখানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক দিয়ে স্থানীয়রা নিত্যপণ্য এবং পর্যটকরা পাচ্ছেন নানা উপহার সামগ্রী।







