সমগ্র বিশ্বের কোটি কোটি দর্শকের প্রাণের চাওয়া ও পাওয়া-না পাওয়ার নাম বিশ্বকাপ ফুটবল। এখানে একেকটা মানুষের, একেকটা পরিবারের গল্প, যে গল্পে মিশে আছে আবেগ-অনুভূতি, উচ্ছ্বাস, হতাশা। এমনও শোনা যায় প্রিয় খেলোয়াড়ের হেরে যাওয়া কেন্দ্র করে আত্মাহুতি পর্যন্ত দিয়েছে কেউ কেউ। পরিবারের সদস্যদের ভিতর, বন্ধু কিংবা সহপাঠী-সহকর্মীর মতবিরোধ তুমুল দ্বন্দ্ব সাংঘাত। টানা এক (৩৯ দিন) মাসব্যাপী বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার সমাপ্তি ঘটল নিউইয়র্ক এর মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মহাসমারোহে, মহাউৎসবে। টাইমস স্কয়ার অপরদিকে ম্যাডিসন স্কয়ারে সমর্থকদের আশা নিরাশার অবসান একরাশ আনন্দ আর বেদনার মধ্য দিয়ে।
আবার আলাদা দল সমর্থক না থাকারও অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে, তাতে হার-জিতের আনন্দ-বেদনার সমান অংশীদার হওয়া যায়। ভাতিজার কাছে জানতে চাইলাম কেন সে পর্তুগালের সমর্থক। তার উত্তর রোনালদোর জন্য। এখনো পর্তুগালের পতাকা বারান্দার রেলিংয়ের সাথে টাঙ্গানো। ১৯৯৮-এর বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফ্রান্স আর জার্মানির মধ্যে। আমার ছোট্ট ভাতিজি বলে উঠলো তার দল জিতেছে। আনন্দে গড়াগড়ি।
এবারের খেলা ছোট শিশু (Students) কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা পরিবারের বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামতের কথা জানানো এবং নিজেরও ভিন্ন মত। এক স্টুডেন্টের মা বললেন, ‘এইসব আমরা দেখি না, এইগুলা হইতেছে খ্রিস্টানদের, আবার উনি এটাও বললেন (উত্তরায় তাদের মার্কেট) খেলা উপলক্ষে খাবারের আয়োজন হইতেছে মার্কেটে। সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীরাও কেউ শোক আর কেউ আনন্দের বন্যায় ভাসছে যেন।
অতীত বর্তমানের অনেক পরিবারের অনেক ঘটনা বা কাহিনী জড়িয়ে আছে এই ফুটবল খেলাকে ঘিরে। আমার পরিবারেরও একটি দুর্ঘটনা আছে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে, তবে এটি বিশ্বকাপ ফুটবল ছিল না। ১৯৬৫/১৯৬৬ সালের দিকের কথা। খেলা অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়া বনাম পাবনা। পাবনার টিমের সাথে আমার বাবা একজন খেলোয়াড়-রেফারি হিসেবে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পাবনায় ফিরে এলেন।
‘একটি দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না’, আমরা বেড়ে ওঠার সাথে সাথে ফুটবল খেলা আমাদের সব ভাইবোনের অস্থি-মজ্জায় মিশে গেছে। এমনটি কেবল একটি পরিবারেরই ঘটনা নয়। যাইহোক, ২০২৬ এর বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনালে আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে পরাজয় বরণ করা পারস্যের প্রাচীন কাহিনী পিতা-পুত্রের সম্মুখ যুদ্ধের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পিতা রুস্তম হাতে কাছে পুত্র সোহরাব পরাজিত হয়ে নিহত হলেন। আর ১৯ জুলাই ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় মেসি হেরে গেলেন ১৯ বছরের তরুণ ইয়ামালের কাছে। একদিকে মর্মান্তিক বেদনা অন্যদিকে বিজয়ের মহাউৎসব।







