মধ্য ইন্দোনেশিয়ায় ৩ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে ১৬ ফুট লম্বা এক অজগরের পেট থেকে। এই ঘটনায় বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
রোববার (৯ জুন) মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শনিবার ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মধ্য ইন্দোনেশিয়ার দক্ষিণ সুলায়েসি প্রদেশের কালেম্পাং গ্রামে এই ভয়ানক ঘটনাটি ঘটে।
তবে এই অঞ্চলটিতে এটিই প্রথম কোন ঘটনা নয়। এর আগেও ঘটেছে এমন ঘটনা। ২০১৭ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত অজগরের পেট থেকে অঞ্চলটিতে ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬ ফুটের একটি অজগরের পেট থেকে ফরিদা নামের এক নারীর দেহ উদ্ধার হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না মেলার পর শেষ পর্যন্ত অজগরের পেট থেকে উদ্ধার হয়।
গ্রামপ্রধান সুয়ার্দি রোসি সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে মহিলা নিখোঁজ ছিলেন। রাতে বাসায় না ফেরায় তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। শুক্রবারও সারাদিন ধরে খোঁজ চলে। অবশেষে পুলিশে নিখোঁজ হওয়ার ডায়েরিও করা হয়।
গ্রামপ্রধান বলেন, শনিবার সকালে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি জঙ্গলে ফরিদার কিছু জিনিস পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। তখনই তাদের সন্দেহ হয়। জঙ্গলের ভিতরে ঢুকতেই তারা দেখতে পান অজগরটিকে। সেটি নড়ার মতো অবস্থায় ছিল না। গ্রামবাসীদের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। কারণ সুলায়েসি প্রদেশে এর আগেও এ রকম ঘটনা ঘটেছিল। এর পরই গ্রামবাসীরা অজগরের পেট কেটে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। সুয়ার্দির দাবি, অজগরের পেট কাটতেই ফরিদার দেহ বেরিয়ে আসে।
বন দপ্তর জানায়, এই ধরনের ঘটনা খুবই বিরল। তবে ইন্দোনেশিয়ায় সাম্প্রতিক অতীতে এ রকম বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। গত বছরেই সুলায়েসির তিনানগিয়া জেলায় অজগরের পেট থেকে এক কৃষকের দেহ উদ্ধার হয়। ২০১৮ সালে দক্ষিণ-পূর্ব সুলায়েসির মুনা শহরে অজগরের পেট থেকে এক নারীর দেহ উদ্ধার হয়েছিল।







