এক বছর যাবৎ কাঁচা নিরামিষ খেয়ে বেঁচে ছিলেন জান্না স্যামসোনোভা (৩৯) নামের এক নারী। তার এই অভ্যাসের কথা এবং কাঁচা খাবারের বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারও করেছেন। এক বছর পর গত ২১ জুলাই অনাহারের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করছে হচ্ছে।
মঙ্গলবার ১ আগস্ট ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, তিনি রাশিয়ান নাগরিক ছিলেন।
নিউইয়ার্ক পোস্ট সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, ঝন্না ডি’আর্ট নামের তার একটি আইডি রয়েছে। যেখান তিনি তার অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভ্রমণের সময় চিকিৎসাও নিয়েছিলেন।
মিসেস স্যামসোনোভার ইনস্টাগ্রাম পোস্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তিনি প্রায় গত এক দশক যাবৎ একটি ডায়েট অনুসরণ করছিলেন। আর এর নিয়ম অনুযায়ী তিনি শুধু কাঁচা নিরামিষ খেতেন।
তার এক বন্ধু বলেন, কয়েক মাস আগে তাকে শ্রীলঙ্কায় দেখেছিলাম। তখন তাকে বেশ ক্লান্ত এবং অসুস্থ মনে হয়েছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য বাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। তবে তিনি পরে আবারও বাসা থেকে পালিয়ে যান। পরে তাকে থাইল্যান্ডের ফুকেটে দেখে বেশ অবাক এবং আতঙ্কিত হয়েছিলাম।
তার আরেক বন্ধু বলেন, আমি তার এক তলা উপরে থাকতাম। প্রতিদিন সকালে ভয়ে থাকতাম না জানি তার প্রাণহীন দেহ দেখতে হবে। যদিও আমি তাকে চিকিৎসার জন্য রাজি করিয়েছিলাম, শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা করাননি।
মিসেস স্যামসোনোভার মা বলেন, তার মেয়ে ‘কলেরা সংক্রমণে’ মৃত্যু হয়েছে। তবে মৃত্যুর কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তার মা বিশ্বাস করেন, মিসেস স্যামসোনোভার ক্লান্তি এবং কাঁচা নিরামিষ খাওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে।
নিউইয়র্ক পোস্ট সূত্রে প্রতিবেদনে বলা হয়, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, গত সাত বছর যাবৎ তিনি শুধুমাত্র জায়েন্ট, মিষ্টি কাঠাল এবং ডুরিয়ান খেয়েছিল।
স্যামসোনোভা তার বিধিনিষেধমূলক খাওয়ার নিয়ম বর্ণনা করার সময় চিৎকার করে বলেন, আমি প্রতিদিন আমার শরীর এবং মনকে পরিবর্তিত হতে দেখি। আর আমি নতুন এই আমাকেই ভালবাসি।







