আন্তর্জাতিক

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেন বাড়ছে?

ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কেন বাড়ছে?

ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিতর্কের জেরে নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ বাড়ছে। ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর কমিশন প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ চলছে।

গত মাসে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, দেশজুড়ে ভোটার তালিকার বড় ধরনের সংশোধন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত দুই নির্বাচন কমিশনারের অনুমোদন ছাড়াই নেওয়া হয়েছে। এই কার্যক্রমে খসড়া ভোটার তালিকা থেকে কয়েক কোটি নাম বাদ পড়েছে।

তবে নির্বাচন কমিশন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনসংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবে এবং আইন মেনেই নেওয়া হয়েছে।

বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নামও বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এর ফলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি নির্বাচনীভাবে সুবিধা পেতে পারে।

কেন বিতর্ক
২০২৫ সালে শুরু হওয়া স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা এসআইআর কার্যক্রম নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেতরেও মতবিরোধের অভিযোগ উঠেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সদস্যের কমিশনের দুই সদস্য গত ১০ মাসে একাধিকবার গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুয়া ভোটার শনাক্ত করা এবং অবৈধ বিদেশি অভিবাসীদের ভোট দেওয়া ঠেকাতেই এই কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। সমালোচকদের অভিযোগ, এতে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কত নাম বাদ পড়েছে
ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খসড়া ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ৩০ লাখের বেশি নাম বাদ পড়েছে। দেশটির মোট ভোটারের প্রায় ১৫ শতাংশের সমান এই সংখ্যা।

তবে বাদ পড়া নামের চূড়ান্ত সংখ্যা এখনও নির্ধারিত হয়নি। দাবি ও আপত্তি নিষ্পত্তির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হলে প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।

কেন বাড়ছে বিক্ষোভ
বিতর্কের পর দেশজুড়ে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছে। কংগ্রেস দিল্লিতে কর্মসূচি পালন করেছে। দলটির নেতা রাহুল গান্ধীকে মঙ্গলবার ও বুধবার অল্প সময়ের জন্য আটকও করা হয়।

এদিকে তরুণদের নেতৃত্বাধীন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু করেছে। শনিবার দিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

৬২ বছর বয়সী জ্ঞানেশ কুমার ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব নেন। ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তার এই পদে থাকার কথা।

ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টও সরকারের ও নির্বাচন কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। মে মাসে আদালত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও বৈধ ভোটারদের অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি আগামী সপ্তাহে হওয়ার কথা।

বিষয়:এসআইআর ককরোচ জনতা পার্টি জ্ঞানেশ কুমার বিক্ষোভ ভারতের নির্বাচন কমিশন

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…