পিট হেগসেথ ও মার্কো রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ হোয়াইট হাউসের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধরনের পরাজয়ের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর পদত্যাগের গুঞ্জন নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প প্রশাসনে নির্বাচনের পর সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর এ অবস্থান জানাল প্রশাসন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে রিপাবলিকানদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে দলটির বড় ধরনের পরাজয়ের পেছনে এই যুদ্ধকে দায়ী করছেন অনেকে। এমন পরিস্থিতিতে হেগসেথকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি উঠেছে।
এমনকি রিপাবলিকান প্রতিনিধি টমাস ম্যাসি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার হুমকি দিয়েছেন। ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই আইনপ্রণেতা সংবাদমাধ্যম পলিটিকোকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাসি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দ্রুত হেগসেথের পরিবর্তে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, জানুয়ারিতে নতুন ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এ উদ্যোগ নিতে হবে। কারণ, তখন নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নিয়োগ সিনেটে অনুমোদন করানো কঠিন হতে পারে।
অন্যদিকে হেগসেথ এক ভিডিও বার্তায় তার বিরুদ্ধে অভিশংসনের উদ্যোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষায়, ‘তারা আমাকে আক্রমণ করছে, আমাদের আক্রমণ করছে, কারণ আমরা কার্যকরভাবে কাজ করছি। এতে কোনো লাভ হবে না। আমরা পিছিয়ে যাব না।’
ভিডিও বার্তায় নিজের নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়নের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ বাড়ানো, প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা পুনর্গঠন এবং বৈচিত্র্যভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগ বাতিলের বিষয় উল্লেখ করেন হেগসেথ।
এদিকে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছাড়তে পারেন, এমন খবরও অস্বীকার করেছেন মার্কো রুবিও। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করাই তাঁর পরিকল্পনা ছিল।
রুবিও বলেন, ‘আমি যে কাজ করছি, তা ভালোবাসি। আর যখন শুনি তিনি চাকরি ছাড়ছেন, তখন আমি হাসি। বলি, কোন চাকরিটি ছাড়বেন?’
হোয়াইট হাউস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরও রুবিওর পদত্যাগের খবরকে ‘ভুয়া সংবাদ’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
তবে হেগসেথের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্বীকার করেন, হেগসেথকে নিয়ে তার কাছে কিছু ফোন এসেছে। তবে তাকে দায়িত্বে রাখার বিষয়ে নিজের দৃঢ় অবস্থানের কথাও জানান। পরে বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘পিট হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন।’
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন কিংবা সেন্টকমের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকেও দায়িত্ব থেকে সরানোর কথা বিবেচনা করতে পারেন। আট মাস আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে কৌশলগত পরামর্শ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।





