স্টারলিংকের গতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি: জেলেনস্কি

ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনে স্টারলিংকের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। এর পরও ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কে সমস্যা রয়ে গেছে। রাশিয়ায় হামলায় ব্যবহৃত ড্রোনগুলো দ্রুতগতিতে চলার সময় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রাশিয়ার তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে চলমান বিরোধের মধ্যে আবারও স্টারলিংকের গতি সীমিত করার বিষয়টি সামনে এসেছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সংবাদ মাধ্যম বিবিসি’র প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিবিসি জানায়, ঘণ্টায় ১৬১ কিলোমিটার বা ১০০ মাইল গতিতে চলার সময় ড্রোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এতে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে ইউক্রেন জানিয়েছিল, স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগের গতি সীমিত করায় ড্রোনের কার্যক্রমে সমস্যা হচ্ছে। স্টারশিল্ডের মাধ্যমে ইউক্রেনের সেনারা ড্রোন পরিচালনা এবং লক্ষ্যবস্তু পর্যবেক্ষণ করে থাকেন।
স্টারলিংক ও এর সামরিক সংস্করণ স্টারশিল্ডের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তবে নেটওয়ার্কে আরোপিত বিধিনিষেধ পুরোপুরি তুলে নেওয়া হয়েছে, এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো পায়নি দেশটি।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প বলেন, স্টারলিংকের মালিক ইলন মাস্ক নেটওয়ার্কের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিয়েছেন। তবে মাস্ক এর আগে সংযোগের গতি কমানোর সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। হোয়াইট হাউসও ইউক্রেনে ইচ্ছাকৃতভাবে নেটওয়ার্কের সংযোগ সীমিত করার অভিযোগ নাকচ করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, স্টারলিংকের গতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার তেল স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও জেলেনস্কির মধ্যে বিরোধের মধ্যেই স্টারলিংক সংযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়ার তেল অবকাঠামোয় হামলা দেশটির যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের জোগান কমাতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাম্পের দাবি, এসব হামলা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, স্টারলিংকের গতি সীমিত থাকায় ট্রাম্প মাস্কের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে আলোচনার পর নেটওয়ার্কের গতি স্বাভাবিক অবস্থার কাছাকাছি ফিরেছে বলে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে। তবে ইউক্রেনের সামরিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সংযোগ পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।






