ইসকন নিষিদ্ধ চেয়ে আইনজীবীর করা আবেদন শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টকে বললেন ‘এই সংগঠন নিষিদ্ধ হবে কি না? সেটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়।’
বুধবার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থিত হয়ে ইসকন নিষিদ্ধ চান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনির উদ্দিন।
একপর্যায়ে আদালত এবিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্য জানতে চান। সে অনুযায়ী রাষ্ট্র পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসাদুজ্জামান হাইকোর্টে তার বক্তব্য তুলে ধরেন।
এবিষয়ে পরবর্তীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আজকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী দুইটা পত্রিকা হাইকোর্টের দৃষ্টিতে আনেন। এরপর তিনি সুয়ো মোটো রুল ইস্যুর প্রার্থনা করেন। তার প্রার্থনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল ইসকনকে যাতে নিষিদ্ধ করা হয় এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যাতে নির্দেশ দেয়া হয় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে গতকালের চট্টগ্রামের ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা। সেই সাথে ওই আইনজীবী আগামী অন্তত দুই সপ্তাহ জরুরী অবস্থা জারির আবেদন জানান।
এই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আমাকে ডেকে পাঠালে আমি আদালতে গিয়ে বলি, ইসকনের ইস্যুটি দুর্ভাগ্যজনক। এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং ফৌজদারি অপরাধ। সরকার গুরুত্ব সহকারে ঘটনাটি দেখছেন এবং যথাযথ আইনী পদক্ষেপ সরকার নেবেন। তবে এই সংগঠন (ইসকন) রেজিস্ট্রার্ড কি না? এই সংগঠন নিষিদ্ধ হবে কি না? এই সংগঠনের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং এই সংগঠনের অস্তিত্ব কি? এর সবকিছু সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের (পলিসি ডিসিশানের) বিষয়। সরকার এটার খোজ খবর নিয়ে যথাযথ আইনি ভাবে দেখবেন। আমি আদালতকে বলি এই পর্যায়ে কোন রুল ও নির্দেশনা দেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। দেখেন সরকার কি করছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে তার পর যদি মনে হয় তখন দেখা যেতে পারে। আদালত এবিষয়ে কতটুকু অগ্রগতি তা আগামীকাল আমাকে জানাতে বলেছেন।’

মঙ্গলবার রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও হাটহাজারীর পুন্ডরিক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এ আদেশের পর আদালত চত্ত্বরে চিন্ময়ের বিক্ষুব্ধ অনুসারীরা প্রিজনভ্যানের চারদিকে শুয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সরিয়ে দিতে টিয়ারসেল, সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আদালত এলাকা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে রঙ্গম কমিউনিটি সেন্টারের পাশে সহকারি সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) সাইফুল ইসলাম ওরফে আলিফকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সাইফুল ইসলাম লোহাগাড়ার চুনতি এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে। সাইফুল ইসলাম আলিফ চট্টগ্রাম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য।








