নেত্রকোনার মদন উপজেলায় এক শিক্ষকের লালসার শিকার হয়ে ১১ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রী সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলার একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মামলা করেছেন শিশুটির মা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক পরিবারসহ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২ নভেম্বর মাদ্রাসা ছুটির পর অভিযুক্ত শিক্ষক ভুক্তভোগী শিশুকে মসজিদ ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নেন। অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা চলে যাওয়ার পর নির্জনতার সুযোগ নিয়ে একটি কক্ষে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি কাউকে জানালে শিশুটিসহ তার মা ও ভাইকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়। এভাবে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার শিশুটিকে ধর্ষণ করেন ওই শিক্ষক।
শিশুটির মা সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। সম্প্রতি মেয়ের শারীরিক পরিবর্তন ও অসুস্থতার খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ১৮ এপ্রিল স্থানীয় একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপরই পুরো বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়।
চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার জানান, শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর, ওজন মাত্র ২৯ কেজি। তার শরীর গর্ভধারণের জন্য একেবারেই প্রস্তুত নয়। গর্ভস্থ বাচ্চার মাথার তুলনায় শিশুটির কোমরের হাড় (পেলভিস) অনেক সরু, যা প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও শিশু উভয়ের জন্যই চরম ঝুঁকিপূর্ণ।
শিশুটির মা জানান, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর সন্তানদের কথা ভেবে তিনি দূরে কাজ করতেন। বড় মেয়েকে নিরাপদ ভেবে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিলেন। কান্নজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, হুজুর আমার শিশু বাচ্চাটার সাথে এমন পিশাচের মতো কাজ করল, আমি স্বপ্নেও ভাবি নাই। আমি এই অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযুক্ত শিক্ষকের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি ১৮ এপ্রিল এলাকা ছেড়েছেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








