ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের নজিরবিহীন ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর অঞ্চলটিতে চলমান উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা করছে বিশ্ববাসী। এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা।
এনডিটিভি জানিয়েছে, সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনস্যুলেটে ইসরায়েলের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রতিশোধে (১৪ এপ্রিল) রোববার গভীর রাতে ইসরায়েলে ২০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এই হামলাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক এবং মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে লেখা একাধিক বইয়ের লেখক সাইমন মাবন বলেছেন, বর্তমানে এই অঞ্চলের স্থিতাবস্থা এবং ভবিষ্যত কী হতে পারে তা বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। এই আক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে অঞ্চলটিকে অস্থিতিশীল করেছে এবং অনিশ্চয়তায় ভরা একটি অনিশ্চিত পরিবেশ তৈরি করেছে মনে করেন প্রফেসর মাবন।
তিনি বলেন, এই হামলা আঞ্চলিক রাজনীতিতে নাটকীয় প্রভাব ফেলবে। ইসরায়েলের সরাসরি হামলায় ইরানের সামরিক বাহিনীর শাখা আইআরজিসি’র কয়েক সিনিয়র সদস্য নিহত হয়েছেন। এতে ইরানের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, এটি ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র এবং এর বাইরেও অনেক দেশের মধ্যে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিশোধ নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু হামলার পর বলেছেন, তার দেশ কয়েক বছর ধরে ইরানের সরাসরি আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং যারা তাদের ক্ষতি করবে, তাদেরও ক্ষতি করা হবে। সম্ভাব্য ইসরায়েলি প্রতিক্রিয়া নিয়ে মাবন বলেন, ইসরায়েল বলেছে, যদি ইরানের ভূখণ্ড থেকে সরাসরি হামলা হয় তাহলে পাল্টা জবাব দেবে তারা।
ইসরায়েলের সবচেয়ে শক্তিশালী মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েলের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখন ইসরায়েল যদি ইরানে পাল্টা হামলা চালায় তাহলে এটি তৈরি করতে পারে আরও একটি যুদ্ধ পরিস্থিতি। যা ছড়িয়ে পড়বে আশেপাশের অঞ্চলে। ইসরায়েলের সমর্থনে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এগিয়ে আসবে তেমনি ইরানকেও সমর্থন দেবে তাদের মিত্ররা। এতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের শঙ্কা বেড়ে যাবে। আর এমন কিছু হলে ব্যাঘাত ঘটবে বিশ্ব অর্থনীতিতে, দেখা দিবে খাদ্য ও তেল সরবরাহের ঘাটতি, শুরু হতে পারে দুর্ভিক্ষ।
মাবন বলেন, কেউ এই মুহূর্তে এমন কিছু চায় না, কিন্তু ইসরায়েলের যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভা থেকে নেয়া সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে অনেক কিছু। এমন কিছুর সিদ্ধান্ত মানেই বিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনৈতিক ব্যয়। তবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বার্বভৌমত্ব নিয়ে নিজ দেশের নাগরিকদের তোপের মুখে পড়ার আগেই হামলার জবাব দিতে পারে ইসরায়েল সরকার। মাবন আরও বলেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে তুমুল উত্তেজনার এই পটভূমি ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে বাধার মুখে ফেলতে পারে।








