দেশে তাবলীগ সংকটের কারণ কী?

বৃহৎ তাবলীগের সমাবেশে মুসল্লিরা প্রার্থনা ও ধর্মীয় আচার পালন করছেন।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
ঢাকার কাছে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা ও কাকরাইল মসজিদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মুখোমুখি অবস্থানে থাকা তাবলীগ জামাতের দুই অংশ সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়াতে আপাতত সংযত থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত কিছুদিন ধরে তাদের অনড় অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি ঘোষণায় সংঘাত-সহিংসতার আশঙ্কা করছিলেন অনেকে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
কাকরাইল মসজিদ থেকে ‘সাদপন্থীদের সরিয়ে দেয়া’ এবং ‘তাদের ইজতেমা করতে দেয়া হবে না’ বলে যারা ঘোষণা দিয়েছিলো তারা এখন বলছেন আগের সমঝোতা মেনে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। এর ফলে কাকরাইল মসজিদ ভাগাভাগি করে ব্যবহার ও দুই পর্বের ইজতেমা আয়োজনে আগের সমঝোতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ভারতে তাবলীগ-জামাতের শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশে দুই গ্রুপ আলাদা হয়ে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করেছেন এবং তাতে অংশ নিচ্ছেন।
বাংলাদেশের তার অনুসারীদের নেতা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম অবশ্য বলছেন, কওমি মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম ইজতেমায় তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ইজতেমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার অভিযোগ সাদ কান্দালভি নবী রাসুলদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ইজতেমায় আসার যোগ্যতা হারিয়েছেন।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারেও দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ জানুয়ারি প্রথম পর্ব এবং সাতই ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে। ১৯৬৭ সাল থেকে টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বিশ্ব ইজতেমা। দেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নেন।
মোহাম্মদ সাদ কান্দালভির একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ২০১৭ সালে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক তাবলীগ জামাতের নেতাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর থেকে বাংলাদেশে দুই গ্রুপ আলাদা হয়ে দুই পর্বে ইজতেমা আয়োজন করেছেন এবং তাতে অংশ নিচ্ছেন।
এই তাবলীগ জামাতের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রথম প্রকাশ্য রূপ পায় ২০১৭ সালের নভেম্বরে, যখন ঢাকায় তাদের মূল কেন্দ্র কাকরাইলে দুই দল কর্মীর মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরের বছর কাকরাইল মসজিদের দখল নিয়ে সংঘর্ষ হয়েছিলো দু’পক্ষের মধ্যে।
২০১৮ সালের জুলাই মাসে তাবলীগ জামাতের সাদ বিরোধী অংশকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দিয়েছিলেন হেফাজতে ইসলামের তৎকালীন নেতা প্রয়াত আহমদ শফী, যিনি মাওলানা শফী নামে পরিচিত ছিলেন।
মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি তাবলীগ জামাতে কিছু সংস্কারের প্রয়োজনের কথা বলে আসছিলেন আগে থেকেই। এ নিয়ে ২০১৭ সালেই ভারতে তাবলীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে বিভক্তির সূত্রপাত হয়। তার একটি বক্তব্য ছিল , ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা উচিত নয়। অনেকেই মনে করেন যে এই বক্তব্যের মাধ্যমে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনার বিনিময়ে অর্থ নেয়ার বিপক্ষে বলা হয়েছে।
সাদ কান্দালভি ওই সময়ে আরও বলেছিলেন, মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতরে নামাজ না পড়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়া উচিত, যাতে মানুষের সাথে যোগাযোগ বাড়ে।






