বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে, আগামীর নতুন বাংলাদেশ গড়তে ১১টি দল একত্রিত হয়েছি। আমরা পেছনের দিকে নয়; ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সামনে দৌড়াবো। সেই দৌড়ে সকলকে কাছে পেতে চাই। জনগনের প্রত্যাশার এবং মানুষের প্রত্যাশার একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা জামায়াতের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই।”
শুক্রবার ৩০ জানুয়ারি সকালে ফেনী সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
এ সময় জামায়াত আমির বলেন, মান অভিমান ভুলে, দুর্নীতি , চাঁদাবাজ, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে ভোটের দিন কেন্দ্রে গিয়ে প্রথমে গণভোটের ব্যালটে হ্যাঁ ভোটে সিল দেবেন। যদি হ্যাঁ বিজয়ী না হয় তাহলে আপনার পরবর্তী ভোটের দাম থাকবে না। মনে রাখবেন, হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে গোলামী।
তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশে বস্তাপচা রাজনীতিতে বারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সেই রাজনীতিকে বিদায় জানাতে আমরা নতুন বাংলাদেশের কথা বলছি।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত বিজয়ী হলে হিন্দু বৈধ্য খ্রিস্টান কে কোন ধর্মের অনুসারী তা দেখা হবে না। বরং আসমানের নিচে এ ভূখণ্ডের সকল মানুষের প্রতি ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, জুলাই যোদ্ধাদের সম্মান করুন। মা বোনদের সম্মান দিন। মায়েদের একটি দীর্ঘশ্বাস আপনাকে ধংস করে দেবে। মায়েদের দৃষ্টি এখন পরিবর্তনের দিকে, নতুন বাংলাদেশের দিকে। আমরা মায়েদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
কোন মায়ের বেইজ্জতি আমরা সহ্য করবো না। মায়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আবু সাঈদ মুগ্ধসহ হাজার হাজার বীর মায়েরা জন্ম দিয়েছে। এ ধরনের বীর জন্ম দিতে মায়েদের উৎসাহিত করতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবকদেরকে বেকার ভাতা দিতে চাই না। আমরা যুবকদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। ৫ বছরের মধ্যেই যুবকরা বলবে, আমিই বাংলাদেশ; আমি বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক।
তিনি বলেন, আমরা বিজয়ী হলে কাওমী মাদ্রাসা থেকে যারা খারিজ হয়েছে তাদেরকে নাকি মসজিদ মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হবে। এটি একটি ডাহা মিথ্যাচার। কওমী মাদ্রাসা আমাদের কলিজা, এ দেশে ইসলামী শিক্ষা এখন মূলত তারাই ধরে রেখেছে। আমরা এ বিষয়টি কাজে প্রমাণ করতে চাই।
ফেনীর উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে জামায়াতের আমীর বলেন, শুধু ফেনী নয়; দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারী মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে। ৩৩ জেলায় মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। বাকী ৩১টি জেলায় আমরা তা স্থাপন করবো। প্রত্যেকটি জেলা হেডকোয়ার্টারে বিশেষায়িত হাসপাতাল করার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। সেই হাসপাতালে সার্ভিস দেয়ার লোক তৈরীর জন্যই মেডিকেল কলেজ প্রয়োজন। আমাদেরকে দেশবাসীর সেবা করার সুযোগ দিলে ফেনী তার ন্যায্য পাওনা পেয়ে গর্বিত হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ফেনীর একটি বিশেষ অবদান রয়েছে।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এটিএম মাছুম, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, ফেনী-২ আসনের ১১ দলীয় জোট প্রার্থী এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মন্ধসঢ়;জু, ফেনী-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী এডভোকেট এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-৩ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রার্থী ডাক্তার ফখরুদ্দিন মানিক, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, একেএম সামছুদ্দিন। ফেনী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মাওলানা আবদুর রহীমের সঞ্চালনায় জনসভায় জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।







