বিশ্ব পানিতে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে চট্টগ্রামে ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জোয়ার রোধ করা যায়’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু রোধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) চট্টগ্রামের পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দুর্যোগ ও উন্নয়ন সংস্থা (ডাডো)-এর উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল দেশে শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণালব্ধ তথ্য তুলে ধরা এবং প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ডাডোর সভাপতি ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং ডাডোর প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইদ্রিস আলম।
প্রবন্ধে ড. ইদ্রিস আলম বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৩ লাখ মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। বাংলাদেশে এ সংখ্যা বছরে ১৮ হাজারের বেশি, যার বড় অংশই শিশু। বিশেষ করে ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ পানিতে ডুবে মৃত্যু। তিনি বলেন, বাড়ির আশপাশের পুকুর, ডোবা ও খালে অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে এবং যথাযথ তত্ত্বাবধান ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এসব মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও নিরাপদ অবকাঠামো শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। জলাশয়ের চারপাশে নিরাপত্তা বেড়া, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং শিশুবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো গবেষণা, সচেতনতা কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে শিশু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আনসার ও ভিডিপির পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, শিশুদের পানিতে ডুবে মৃত্যু এখন একটি নীরব জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও সামাজিক সংগঠনসহ সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এ ছাড়া সেমিনারে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আমির মোহাম্মদ নাসিরউল্লাহ এবং রিভার পুলিশের এসপি বিজয়া সেন। সেমিনারে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তারা গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগ, নীতিগত সহায়তা এবং জনসম্পৃক্ততা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সভাপতির বক্তব্যে ব্যারিস্টার আফরোজা আক্তার বলেন, একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, রাষ্ট্রেরও অপূরণীয় ক্ষতি। তাই প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সেমিনারের শেষে ডাডো শিশু ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে গবেষণা, জনসচেতনতা, প্রশিক্ষণ, নীতিগত সংলাপ ও কমিউনিটিভিত্তিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গণমাধ্যম এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগে এ বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।







