বল টেম্পারিং কেলেঙ্কারিতে জড়ানো ডেভিড ওয়ার্নারকে ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট যাত্রায় নায়কোচিত বিদায়ের সমালোচনা করে আলোচনার কেন্দ্রে মিচেল জনসন। সাবেক অজি পেসার জানিয়েছেন ওয়ার্নারের কাছ থেকে একটি খারাপ বার্তা পাওয়াতেই তিনি কলামটি লিখতে প্ররোচিত হন।
ক্যাঙ্গারুদের বাঁহাতি ওপেনারের সমালোচনা করায় জনসনের মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি। তার এমন অনুমানকে ঘৃণ্য বলেই আখ্যা দিয়েছেন জনসন।
মঙ্গলবার নিজস্ব পডকাস্ট দ্য মিচেল জনসন ক্রিকেট শোতে কথা বলেন সাবেক এ ক্রিকেটার। এ সময় তিনি জানান, চলতি বছরের এপ্রিলে ওয়ার্নারের কাছ থেকে একটি টেক্সট বার্তা পেয়েছিলেন।
‘আমি ডেভের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছিলাম, যা একেবারেই ব্যক্তিগত ছিল। আমি কল দিয়ে তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছি। সবসময় কথা বলার দুয়ার খোলা রেখেছি। অবসরের পর আমি ছেলেদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রে খোলামেলা ছিলাম। বলেছিলাম যদি আমি মিডিয়াতে এমন কিছু লিখি কিংবা বলি যা আপনি পছন্দ করেন না, তাহলে এসে আমার সাথে কথা বলুন।’
‘ব্যাপারটা আর কোনোভাবেই ব্যক্তিগত বিষয় ছিল না। সম্ভবত এটিই আমাকে কলাম লিখতে প্ররোচিত করেছিল। অবশ্যই এটা বড় একটা কারণ ছিল। আমি মনে করি এটা ডেভের উপর নির্ভর করে, যদি তিনি এটা নিয়ে কথা বলতে চান। বার্তাটিতে সেখানে এমন কিছু বিষয় ছিল, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। সত্যি বলতে তিনি বার্তাটিতে যা বলেছিলেন, তা খুবই খারাপ।’
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাচক বেইলির প্রতিক্রিয়ায় বেশ ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন জনসন। ৪২ বর্ষী সাবেক পেসার তার মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার বিষয়টির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
‘আমি ঠিক আছি কিনা, এমন প্রশ্ন তুলে আমার লেখা কলামটির গুরুত্ব কমানো হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে প্রাধান্য দেয়াকে খুবই ঘৃণ্য বলেই আমার মনে হয়।
মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা নিয়ে যা বলা হয়েছে, এটি সত্য নয়। বাস্তবতা সম্পূর্ণ বিপরীত। আমি আসলে স্পষ্ট মনের মানুষ। আমি সুস্থ আছি। নিশ্চিত করতে চাই যে, সবাই জানে আমি ভালো এবং সুস্থ মস্তিষ্কে আছি। আমি রাগান্বিত ও ঈর্ষান্বিত নই। একটি লেখাই কেবল লিখছি যা লেখার দরকার ছিল বলে মনে হয়েছিল।’
‘আমি বলব না যে বার্তাগুলো পেয়ে আঘাতগ্রস্থ হয়েছি। হতাশ হয়েছিলাম এবং এমন বার্তা পাওয়া অপ্রত্যাশিত ছিল। যাদের সাথে আগে খেলেছি, সেই ছেলেদের সাথে মুখোমুখি বা ফোনে কথা বলতে পছন্দ করব৷ সমাধানের সবচেয়ে ভালো উপায় হবে মুখোমুখি কথা বলা৷ তাই এই বার্তাগুলো পাওয়া আমার জন্য খুব অসম্মানজনক ছিল।’
সম্প্রতি জনসন এক কলামে লিখেছেন, ‘পাঁচ বছর হয়ে গেছে, ওয়ার্নার কী এখনও তার দোষ স্বীকার করেছেন। এখন তিনি যেভাবে অবসরে যাচ্ছেন, সেটা আমাদের দেশের প্রতি একরকম ঔদ্ধত্য ও অসম্মান।’
‘যেভাবে ওয়ার্নারের বিদায়ী সিরিজের জন্য প্রস্তুত হচ্ছি, দয়া করে কেউ বলতে পারেন কেন? টেস্টে রানখরায় ভুগতে থাকা একজন ওপেনারের কেন বিদায়ের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একজনকে নায়কের বিদায় দিতে হবে? ওয়ার্নার অবশ্যই অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক ছিল না এবং সেটা কখনও প্রত্যাশাও করবে না। প্রকৃতপক্ষে, আজীবন নেতৃত্বের নিষেধাজ্ঞায় থেকে ক্যারিয়ার শেষ করবেন।’
তবে ৩৭ বর্ষী ওয়ার্নারের বিষয়ে জনসনের সাথে একমত হতে পারেননি প্রধান নির্বাচক বেইলি। বলেছেন, জনসন খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত নন।
‘আমি এটার টুকরো টুকরো ঘটনা সম্পর্কে অবগত। আশা করছি সে ঠিক আছে। কেউ যদি দূর থেকে খেলোয়াড়রা কিসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, দল ও কোচিং স্টাফদের পরিকল্পনা না জেনে এমন মন্তব্য করে, দেখাতে পারে এটা বেশি লাভজনক। তাহলে এমন কথা শুনতে আমি রাজি আছি।’
বেইলির দ্বিমুখী আচরণের কথা বলতে সাবেক অধিনায়ক টিম পেইনের সেক্সটিং বিতর্ক প্রসঙ্গ তুলে আনেন জনসন। কাছের বন্ধু হওয়ায় পেইনের বিষয়ে কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার ও আরেক নির্বাচকের উপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছিলেন বেইলি।
২০১৮ সালে সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে বল টেম্পারিংয়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ক্যামেরন ব্যানক্রফট। যা স্যান্ডপেপারগেট কেলেঙ্কারি নামে পরিচিত। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিষিদ্ধ হন স্মিথ, ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফট।







