ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-এর এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি এবং হোয়াইট হাউস।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বৈঠকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ও নীতিনির্ধারকরা এই সংকট নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে অংশ নেওয়া অনেক অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকারদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের ‘অনিচ্ছাকৃত ব্যয়’ বহন করতে হচ্ছে পুরো বিশ্বকে।
যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এই যুদ্ধকে ‘নির্বুদ্ধিতা’ও ‘ভুল’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন তুলনামূলকভাবে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিয়েছেন।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, বাজার ও অর্থনীতি দ্রুত পুনরুদ্ধার করবে এবং উদ্বেগের তেমন কারণ নেই। তবে তার এই আশাবাদে সবাই একমত নন।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন সতর্ক করে বলেন, ভৌগোলিক বাস্তবতা বদলায় না, ফলে জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদে বহাল থাকবে। আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিভা বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ধীরগতির ধাক্কা’র মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর গভীর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন। সংকটের কারণে জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। ইরাক তেল উৎপাদন ও রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশসহ অনেক দেশ জ্বালানি সরবরাহে চাপের সম্মুখীন। বিশ্বব্যাংক ইতোমধ্যে দরিদ্র দেশগুলোকে সহায়তা দিতে ১০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল প্রস্তুত রেখেছে। একই সময়ে সার ও খাদ্যের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেস্কিউর বলেন, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এই সংকটের মূল এবং এর সমাধান জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান এই অর্থনৈতিক চাপকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করছে।
যুক্তরাজ্যের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড-এর গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি বলেন, যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়ানোর চেয়ে উত্তেজনা কমানোই বেশি কার্যকর।







