পূর্ব ইউক্রেনীয় শহর বাখমুতে টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চলছে। রাশিয়া অঞ্চলটি দখল করেছে বলে দাবি করেছে। টানা যুদ্ধের কারণে শহরটি প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়েছে। এ শহরে যুদ্ধ শুরুর আগে প্রায় ৭০,০০০ মানুষ বাস করতেন।
মঙ্গলবার ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইরিনা ভেরেশচুক বলেছেন, বিধ্বস্ত শহরটিতে বর্তমানে ৩৮ শিশুসহ চার হাজারেরও কম বেসামরিক নাগরিক রয়ে গেছেন।
ইউক্রেনের একজন সীমান্তরক্ষী বাখমুত শহরের পরিস্থিতি কঠিন বলে জানিয়েছেন। এর আগে রাশিয়ার ভাড়াটে যোদ্ধাদের প্রধান দাবি করেন, তাদের বাহিনী ইউক্রেনের বাখমুত শহরের পূর্বাঞ্চল পুরোপুরি দখলে নিয়েছে। যদিও রাশিয়ার দাবি অস্বীকার করেছে ইউক্রেন।
এর আগে গতকাল বুধবার রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপ বাখমুতের পূর্ব অংশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করেছেন ওয়াগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন। শহরটি ঘিরে কয়েক মাসের তুমুল যুদ্ধের পর রাশিয়া এখন শহরটি দখলের দ্বারপ্রান্তে বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াগনার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ইয়েভগেনি প্রিগোঝিন একটি টেলিগ্রাম ভয়েস রেকর্ডিংয়ে এই ঘোষণা দেন।
ভয়েস রেকর্ডিংয়ে তিনি বলেন, বাখমুতকা নদীর পূর্ব প্রান্ত পর্যন্ত সবকিছুই এখন সম্পূর্ণভাবে ওয়াগনারের নিয়ন্ত্রণে।
ওয়াগনার গ্রুপের এই দাবির ব্যাপারে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে এই সপ্তাহের শুরুতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বাখমুত শহর থেকে সেনা প্রত্যাহার করার পরিকল্পনার খবর অস্বীকার করেছিলেন।
বাখমুত ঘিরে কয়েক মাসের তীব্র যুদ্ধের পর রুশ বাহিনী শহরটি দখল করার প্রায় কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা গত ছয় মাসের মধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়ার জন্য প্রথম উল্লেখযোগ্য কোনো বিজয়।
পশ্চিমা বিশেষজ্ঞ এবং কর্মকর্তারা বলছেন, বাখমুতের দখল রাশিয়ার জন্য যতটা না কৌশলগত তার চেয়েও বেশি প্রতীকী বিজয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী সের্গেই শোইগু মঙ্গলবার বলেছেন, বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ রুশ বাহিনীকে ইউক্রেনের আরও গভীরে হামলা চালানোর কাজকে সহজ করে দেবে।







