যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত পরোক্ষ কূটনৈতিক আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। মধ্যস্থতাকারী কাতার আলোচনায় অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করার পরই বাজারে এই দরপতন দেখা যায়।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন ভোরের লেনদেনে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৭০ দশমিক ৮৪ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৮৩ সেন্ট বা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৬৭ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের কার্যদিবসেও উভয় ধরনের তেলের দাম এক শতাংশের বেশি কমে চার মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, দোহায় দুই দিনব্যাপী আলোচনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল মুক্ত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলোচনা করেছেন। বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।
গত সপ্তাহে একটি মালবাহী জাহাজে হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হলেও বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও দাবি করেছেন, এ পথ দিয়ে তেল পরিবহন যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থার কাছাকাছি ফিরে এসেছে।
এদিকে চীনের বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান হেইতং ফিউচার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত থাকা এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাজার ধরে রাখার প্রতিযোগিতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
এ ছাড়া আগামী রোববারের বৈঠকে ওপেক সদস্য দেশগুলো আগস্ট থেকে দৈনিক তেল উৎপাদন আরও প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে বিশ্ববাজারে সরবরাহ আরও বাড়বে এবং দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।








