যুক্তরাষ্ট্রকে কর ও ব্যয়নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে: আইএমএফ

ছবি: সংগৃহীত
আইএমএফ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা
যুক্তরাষ্ট্রকে সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি কমাতে কর ও ব্যয়নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যদিকে, রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতি থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ ভোগ বাড়াতে হবে চীনকে। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতির দেশকে এ পরামর্শ দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এসব কথা বলেন সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
জর্জিয়েভা বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ কমাতে সহায়তা করলেও তা দিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় সমন্বয় সম্ভব নয়। এ জন্য রাজস্ব ও সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও দেশটির ঋণ ও বাজেট ঘাটতি টেকসই পর্যায়ে আনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেছেন।
আইএমএফের বুধবার প্রকাশিত ‘ফিসকাল মনিটর’ প্রতিবেদনেও দ্রুত ঋণ নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির রাজস্ববিষয়ক বিভাগের প্রধান রদ্রিগো ভালদেস বলেন, বন্ডের সুদহার বাড়ায় সরকারগুলোর আর্থিক সক্ষমতা সংকুচিত হচ্ছে। উচ্চ ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
জর্জিয়েভা বলেন, অতিরিক্ত ঋণের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। এসব দেশের বন্ডের সুদহার বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে নিম্ন আয়ের দেশগুলোর ওপরও। ফলে ঋণ নিয়ন্ত্রণে তাদের ব্যয় কমাতে হচ্ছে।
চীনের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তের সম্ভাবনার মধ্যে দেশটিকে রপ্তানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন আইএমএফপ্রধান। তার মতে, বাণিজ্য উদ্বৃত্ত থাকা দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়ানো প্রয়োজন। চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মডেলেও এ পরিবর্তন জরুরি।
জর্জিয়েভা বলেন, চীনকে অভ্যন্তরীণ ব্যয় বাড়াতে হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে সঞ্চয় বাড়াতে হবে এবং ইউরোপকে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ করতে হবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ব্যাংককের বার্ষিক সভায় অংশ নিচ্ছেন না। দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচার জোরালো হওয়ায় তিনি অভ্যন্তরীণ কর্মসূচিতে ব্যস্ত রয়েছেন। বৃহস্পতিবার সভার পাশাপাশি জি-২০ জোটের অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের সুফল উন্নত দেশগুলো বেশি পেলেও অনেক দেশ পিছিয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন জর্জিয়েভা। এ ব্যবধান কমাতে নিম্ন আয়ের ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আইএমএফের সহায়তা তহবিলে পর্যাপ্ত অর্থ নিশ্চিত করতে সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের দেশগুলোর রাজস্বের যে অংশ ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়, তা এক দশকে ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সামগ্রিক ঋণের বোঝা কিছুটা কমলেও উচ্চ সুদহারের কারণে এসব দেশের আর্থিক চাপ বাড়ছে।
জর্জিয়েভা সতর্ক করে বলেন, আগে থেকেই পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর সঙ্গে অন্য দেশগুলোর ব্যবধান আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।






