আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি ৩৩০ কোটি ডলার

ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান ও ড্রোন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এসব সামরিক সরঞ্জামের আর্থিক মূল্য প্রায় ৩৩০ কোটি ডলার।

মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা (সিআরএস) এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বুধবার ৭ অক্টোবর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।

সিআরএসের ‘ইউএস এয়ারক্রাফট কমব্যাট ড্যামেজ ইন অপারেশন এপিক ফিউরি: কনসিডারেশনস ফর কংগ্রেস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ও ধ্বংস হওয়া সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু, এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ১২টি এফ-১৫ই, একটি এফ-৩৫এ, দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ এবং সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার হারিয়েছে।

এর মধ্যে ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের বাহিনীর গুলিতে তিনটি এফ-১৫ বিধ্বস্ত হয়। পরের মাসে ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ ভূপাতিত হয়। এছাড়া ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় অন্তত আরও আটটি এফ-১৫ই সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ছাড়া একটি ই-৩ সেন্ট্রি, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২, একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন, তিনটি এমকিউ-১ এবং ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

একেকটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের দাম ৩ কোটি ডলারের বেশি। আর প্রতিটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের আনুমানিক মূল্য ৩ থেকে ৫ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমানের প্রতিটির মূল্য ৯ কোটি ২০ লাখ ডলারের বেশি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজের দাম প্রায় ২৭ কোটি ডলার। বোয়িং-৭০৭ উড়োজাহাজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই বিমানটি নজরদারি ও আকাশপথে আগাম সতর্কতার কাজে ব্যবহৃত হয়।

যুদ্ধে একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড এবং একটি এমএইচ-৬০ সি হক হেলিকপ্টারও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সিআরএস। কারণ সামরিক অভিযানের কিছু তথ্য এখনো গোপন রয়েছে। কিছু ঘটনায় দায় নির্ধারণ করাও কঠিন। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি উড়োজাহাজ মেরামতের পর আবারও কাজে ফিরতে পারে।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যয়ও বেড়েছে। এক মাসের কিছু বেশি সময়ে এই ব্যয় ২১৭০ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ২৮১০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিষয়:ইরান যুদ্ধ ২০২৬ ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষতি সিআরএস

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…