জুলাই আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলা বাতিল ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের করা আবেদনের শুনানির সময় হট্টগোলে হলে আদালত শুনানি মুলতবি করে পরবর্তী শুনানির দিন আগামী রোববার সকাল ১১টায় ধার্য করে।
সোমবার ১১ আগস্ট দুপুরে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে খায়রুল হকের আবেদনের শুনানি শুরু করা নিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ ও খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হইচই হট্টগোলের পর আদালত শুনানি মুলতবি করে পরবর্তী এই দিন ধার্য করেন।
আদালতে এসময় এবিএম খায়রুল হকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এমকে রহমান, মহসীন রশিদ, কামরুল হক সিদ্দকী, মনসরুল হক চৌধুরী, জেডআই খান পান্না, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও মোতাহার হোসেন সাজু। রাষ্ট্র পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল আহমেদসহ কয়েকজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল।
আজ বেলা ৩টায় একপর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হাইকোর্টকে বলেন, এই আবেদন শুনানির জন্য আমাদের এক সপ্তাহ সময় নিতে বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল। তাই এক সপ্তাহ পর এটা শুনানির জন্য আসুক। আমরা এক সপ্তাহ সময় চাচ্ছি। তখন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে উদ্দেশ্য করে খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীরা বলেন, আপনি কোর্টকে সময় নির্ধারণ করে দিতে বলতে পারেন না। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল, হইচই ও কিছুটা ধ্বস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে খায়রুল হকের পক্ষের আইনজীবীরা আদালতকে বলেন, এবিএম খায়রুল হক দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি। আমরা দেখেছি, তার পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে তোলা হয়েছে। আমরা তার জন্য তথা জুডিশিয়ারির জন্য এখানে এসেছি।
তখন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে দেশ থেকে যখন বিতাড়িত করা হয়, তখন আপনারা কোথায় ছিলেন? এসময় রাষ্ট্র পক্ষের আরেক আইনজীবী বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। আমার বিরুদ্ধে বিগত সময়ে আটটি মামলা হয়েছে। তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?
এরপর আদালত আজ শুনানি মুলতবি করে আগামী রোববার সকাল ১১ টায় খায়রুল হকের আবেদন শুনানির দিন ধার্য করেন।
গত ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় প্রদান ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের একটি মামলায়ও খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গত ৩০ জুলাই শাহবাগ থানায় করা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে গত ৭ আগস্ট তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত।
দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। পরের বছরের ১৭ মে তিনি প্রধান বিচারপতি থেকে অবসরে যান।
২০১৩ সালের ২৩ জুলাই খায়রুল হককে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই মেয়াদ শেষে কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়। গত বছরের ১৩ আগস্ট তিনি কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতি থাকাকালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল এবং ফতোয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেন খায়রুল হক। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল মামলার মূল রায়দানকারী হিসেবে রাজনৈতিকভাবে তিনি সমালোচিত হন।









