ভারতের কলকাতায় আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপনের খবরে এখন পর্যন্ত নানামুখী প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর এমন খবরে আশঙ্কা ও প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি মনিটর করার কথা জানানোর পর আওয়ামী লীগ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ খবরটি সঠিক নয়।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশে তারা কী করছে, আমরা অবশ্যই মনিটর করছি। তারা যদি বাইরে থেকে কোনো কার্যকলাপের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরি করতে চায়, অবশ্যই আমরা এটা মনিটর করছি। এটা দেখছি।
ভারতে আওয়ামী লীগের অফিস স্থাপনের খবরের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, কলকাতায় রাজনৈতিক কার্যালয় খোলা এবং বাংলাদেশে তাদের যেসব কর্মকাণ্ড হচ্ছে, এর সাথে যে কোনো যোগসূত্র নেই তা বলা যাচ্ছে না। মাস্টারমাইন্ড হয়ে শেখ হাসিনা সেখান থেকে বাংলাদেশ বিরোধী কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ চ্যানেল আইকে বলেছেন, ভারতে আওয়ামী লীগকে অফিস স্থাপন করতে দেওয়ার খবর আমরা শুনেছি। এটি কোনভাবেই প্রত্যাশিত নয়। কার্যালয় স্থাপনের খবর যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের সরকারকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কারণ এটা করার অবশ্যই কোন অসৎ উদ্দেশ্য আছে।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু চ্যানেল আইকে জানান, ‘আমার আশঙ্কা, আওয়ামী লীগ কলকাতায় বসে বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে যারা গণহত্যায় মানুষের কাছে প্রত্যাখ্যাত হয়, তাদের এসব কর্মকাণ্ড মানুষ গ্রহণ করবে না। আওয়ামী লীগকে সংঘবদ্ধ রাখার জন্য তারা এটা করতে পারে। তবে আমার মনে হয় এটা তাদের জন্য আরও ক্ষতিকর হবে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে আমাদের যে ইউনিটি ছিল, সেটি আরও বাড়বে।’
জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি’র যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত বলেন, ভারত সবসময় দাবি করে তারা আমাদের বন্ধু। এমন একটি প্রতিবেশী দেশ কীভাবে বাংলাদেশের এতগুলো ক্রিমিনালকে আশ্রয় দিতে পারে? আওয়ামী লীগের মতো দলের কার্যালয় সেখানে খুলতে দেওয়া উদ্বেগজনক। ভারতে পলিটিক্যাল অফিস খোলা এবং বাংলাদেশে তাদের কালচারাল ফোর্স অ্যাক্টিভ হওয়া একইসূত্রে গাঁথা।
তবে বিবিসি বাংলার এ খবরের সূত্রে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানানো হলেও আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলেছে, কলকাতায় অফিস স্থাপনের খবরটি সঠিক নয়।
আওয়ামী লীগের এমন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে কলকাতার এক সিনিয়র সাংবাদিক চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের পর ভারতে আশ্রয় নেওয়া আওয়ামী লীগ নেতাদের বেশিরভাগই রাজারহাট নিউটাউন, কল্যাণী, বারাসাত ও বনগাঁয় বাসা-বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন। নিউটাউন থেকে বিজনেস সেন্টার এলাকায় সপ্তাহে অন্তত একদিন বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি বাণিজ্যিক ভবনের ফ্লোর ভাড়া নিয়ে বিভিন্ন মিটিংয়ের জন্য ব্যবহার করছেন বলে আমরা খবর পেয়েছি। তবে অফিসিয়ালি এটি আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়, এমন কোন নথিপত্র এখনও পাওয়া যায়নি।








