যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আরোপিত সব ধরনের বিমান চলাচল নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
শনিবার (২ মে) এক বিবৃতিতে ইউএইর জেনারেল সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানায়, দেশটির আকাশসীমায় সব ধরনের বিমান চলাচল এখন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক পোস্টে কর্তৃপক্ষ জানায়, অপারেশনাল ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক মূল্যায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এই ঘোষণাকে দুবাই ও আবুধাবির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে দুবাই, যেখানে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহনে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর অবস্থিত। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে এই দুই হাবেই বিভিন্ন বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। ইরানের পাল্টা হামলার জেরে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমার বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতি শুধু বিমান চলাচলই নয়, জ্বালানি নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা করা অঞ্চলটির অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইট পরিচালনায় রুট সংকট দেখা দেয়।
সংঘাতের সময় ইউএইসহ অন্তত আটটি দেশ আংশিক বা পূর্ণ আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। এর মধ্যে ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন ও কুয়েতও ছিল।
ইউএইর প্রধান এয়ারলাইনস এমিরেটস ও ফ্লাইদুবাই সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছিল। অন্যদিকে, ইতিহাদ আবুধাবি থেকে সব ধরনের ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়া বন্ধ রাখে।
বিমান চলাচল সংক্রান্ত তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সিরিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের শুরুর দিনগুলোতে অঞ্চলজুড়ে ১১ হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর ইউএই প্রথমে অস্থায়ী ও আংশিক আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে। পরে মার্চে ধীরে ধীরে পুনরায় চালু করা হয়।
মার্চের ১ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত আংশিকভাবে ফ্লাইট চালু থাকাকালে দেশটির বিমানবন্দরগুলোতে ১৪ লাখ যাত্রী যাতায়াত করেন এবং ৭ হাজার ৮৩৯টি ফ্লাইট পরিচালিত হয়। এ সময় জাতীয় এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম স্বাভাবিকের ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশে পৌঁছায়।
গত মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে সংঘাতের অবসান ঘটে, যা শেষ পর্যন্ত শনিবারের এ সিদ্ধান্তের পথ সুগম করে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে বিমান চলাচল খাতের পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিতও মিলছে। কাতার এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, আগামী ১০ মে থেকে তারা ইরাকের তিনটি শহরে পুনরায় ফ্লাইট চালু করবে। এছাড়া জুনের মাঝামাঝি থেকে ছয় মহাদেশে ১৫০টির বেশি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে।







