ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে টানা কয়েক সপ্তাহের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে শনিবার পলিটিকোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ইরানে নতুন নেতৃত্ব খোঁজার সময় এসেছে।”
রোববার (১৮ জানুয়ারি) এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব দেশ পরিচালনার জন্য দমন-পীড়ন ও সহিংসতার ওপর নির্ভরশীল। তাঁর ভাষায়, খামেনি দেশের সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং অভূতপূর্ব মাত্রার সহিংসতার জন্য দায়ী। তিনি বলেন, দুই দিন আগে ৮০০ জনের বেশি মানুষকে ফাঁসি না দেওয়াই ছিল তার সেরা সিদ্ধান্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, নেতৃত্ব মানে শ্রদ্ধা—ভয় ও মৃত্যুর রাজনীতি নয়। একটি দেশ কার্যকরভাবে চালাতে হলে হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা কোনো নেতৃত্বের পরিচয় হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
খামেনিকে “অসুস্থ মানুষ” আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের কারণেই দেশটি যেকোনো জায়গার চেয়ে বসবাসের জন্য সবচেয়ে খারাপ স্থান হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন আয়াতুল্লাহ খামেনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভে জড়িতদের রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তাদের কোমর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন। ধর্মীয় ছুটির দিনে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, আমরা দেশকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে চাই না, তবে দেশীয় অপরাধীদের রেহাই দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধীদের শাস্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভগুলোকে “সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড” ও “দাঙ্গা” বলে অভিহিত করে দাবি করেছে, এটি ইরানকে সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করার একটি “আমেরিকান ষড়যন্ত্র”।
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করতে পারে। তিনি বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দখলের আহ্বান জানিয়ে বলেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” তবে বাস্তবে এমন কোনো হস্তক্ষেপ ঘটেনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান দমন অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ৩ হাজার ৪২৮ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছে।
এদিকে নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি দেশজুড়ে ইরানিদের জাতীয় স্লোগান দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক বিক্ষোভকারীই তাঁর নাম উচ্চারণ করছেন। উল্লেখ্য, পাহলভির পশ্চিমাপন্থী পিতা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের সময় দেশত্যাগে বাধ্য হন।
রেজা পাহলভি বলেন, তিনি একটি ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় উত্তরণের পক্ষে এবং ভবিষ্যৎ সরকার কাঠামো নির্ধারণে একটি জাতীয় গণভোট চান। সাংবাদিকদের তিনি জানান, আমি ইরানে ফিরে যাব।
ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে পাহলভি বলেন, আমি বিশ্বাস করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার কথার মানুষ এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ইরানি জনগণের পাশেই থাকবেন।









