মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে ঘোষিত ‘প্রোজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান হঠাৎ স্থগিত করেন সৌদি আরব মার্কিন বাহিনীর ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি স্থগিত করার পর। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ট্রাম্প রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার মাধ্যমে উপসাগরীয় মিত্রদের বিস্মিত করেন। এতে বিশেষভাবে অসন্তুষ্ট হয় সৌদি আরব।
কর্মকর্তাদের দাবি, এর জবাবে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানায় যে, রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সামরিক বিমান উড্ডয়ন কিংবা সৌদি আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে না। দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প ও সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এর মধ্যে ফোনালাপেও অচলাবস্থা কাটেনি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য ট্রাম্পকে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করতে হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, অন্যান্য উপসাগরীয় মিত্ররাও এ পরিকল্পনা নিয়ে আগে থেকে অবগত ছিল না। অভিযান শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প কাতার-এর নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক সৌদি সূত্র এনবিসি নিউজকে জানায়, সৌদি কর্মকর্তারা ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ট্রাম্প ঘোষণার আগে পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ওমান-এর সঙ্গে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে কোনো সমন্বয় করেনি। তবে পরে আলোচনা হয়েছে এবং এতে ওমান ‘বিরক্ত বা ক্ষুব্ধ’ হয়নি বলে তিনি জানান। ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। ইরানি বাহিনীর হুমকি ও হামলার মধ্যে পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সামরিক সুরক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এতে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, অভিযান স্থগিতের সময়ও মার্কিন সামরিক বাহিনী উপসাগরে আরও কয়েকটি জাহাজ প্রস্তুত করছিল। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছিল, দুটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ সফলভাবে প্রণালী অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তি “চূড়ান্ত ও স্বাক্ষরিত হতে পারে কি না” তা দেখার জন্য অভিযানটি কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।








