ইরাক ও সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের (আইএস) শীর্ষ নেতা আবদাল্লাহ মাক্কি মুসলিহ আল-রিফা, যিনি আবু খাদিজা নামে পরিচিত, ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন।
ইরাকি প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল-সুদানি বলেছেন, আবু খাদিজা নামেও পরিচিত আবদুল্লাহ মক্কি মুসলিহ আল-রিফাই ‘ইরাক ও সারা বিশ্বে অন্যতম সবচেয়ে বিপজ্জনক সন্ত্রাসী’ হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘তাকে আমাদের সাহসী যোদ্ধারা নিরলসভাবে অনুসরণ করে হত্যা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দাবি করেছে, বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-আনবার প্রদেশে এই হামলা চালানো হয়।
সেন্টকম জানায়, আবু খাদিজা আইএস-এর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার প্রধান ছিলেন এবং বিশ্বব্যাপী সংগঠনটির সামরিক অভিযান, সরবরাহ ও পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন। এছাড়া, তিনি আইএস-এর বৈশ্বিক অর্থায়নেরও বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করতেন।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে পোস্ট করে বলেন, ‘তার দুর্ভাগ্যজনক জীবন শেষ হয়েছে, সঙ্গে আরেকজন আইএস সদস্যও নিহত হয়েছে। এই অভিযান ইরাকি সরকার ও কুর্দি আঞ্চলিক সরকারের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়েছে। শক্তির মাধ্যমে শান্তি!’
প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সেন্টকম ও ইরাকি বাহিনী তাদের পূর্ববর্তী একটি অভিযানে পাওয়া ডিএনএ থেকে রিফাইকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে তিনি ‘কিছুটা ভাগ্যক্রমে বাঁচতে সক্ষম হয়েছিলেন’। জেনারেল মাইকেল এরিক কুরিলা বলেন, ‘রিফাই ছিলেন আইএসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের মধ্যে একজন। আমরা সন্ত্রাসীদের হত্যা করতে ও তাদের সংগঠনগুলো ভাঙতে চলেছি, যেগুলো আমাদের দেশ, যুক্তরাষ্ট্র, মিত্র ও অংশীদারদের জন্য হুমকি তৈরি করে।
আইএস এক সময় ৮৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে ছিল, যা উত্তর-পূর্ব সিরিয়া থেকে উত্তর ইরাক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল এবং প্রায় আট কোটি মানুষকে তাদের নিষ্ঠুর শাসনে রেখেছিল।
ইরাক ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে আইএসের পরাজয় ঘোষণা করে এবং ২০১৯ সালে তারা তাদের শেষ দখলকৃত এলাকা হারায়। তবে সন্ত্রাসী ও ঘুমন্ত সেলের সদস্যরা এখনো দেশের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত রয়েছে এবং ইরাকি সেনাবাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্ন আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে।








