বহুবার বায়ুদূষণ শহরের শীর্ষ স্থান দখল করেছে রাজধানী শহর ঢাকা। সর্বশেষ গতকাল এবং আজ রবিবার ১৫ জানুয়ারি সকলেও বায়ুদূষণে ঢাকার অবস্থান শীর্ষে। দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা চতুর্থ নিয়মিতই এমন সমীক্ষা দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থার দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা নগরী।
বায়ুদূষণের কারণে ঢাকা শহরে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে বেশি। শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি নানা শারীরিক জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন: বাতাসে ভারী ধাতু ও সূক্ষ্ম বস্তুকণা বেড়ে গেলে ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট, স্নায়ুজনিত সমস্যা বেড়ে যায় এবং বুদ্ধিমত্তা কমে যায়।
বায়ুমণ্ডলীয় অধ্যায়ণ কেন্দ্রের (ক্যাপস) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন: বায়ুদূষণ তিন শ্রেণির মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। শিশু কিশোর, বৃদ্ধ এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য বাযুদূষণ মারাত্মক স্বান্থ্যহাণির মূল কারণ এই বাযুদূষণ। এর থেকে প্রতিকার পাওয়ার জন্য সম্মিলিত কাজ করার আহ্বান জানান এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন, সরকারি কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের সমন্বয়ে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব।
২০১৯ সালের মার্চ মাসে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঢাকার বায়ু দূষণের তিনটি প্রধান উৎস হলো, ইটভাটা, যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণ সাইটের ধুলিকণা।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৯ জন দূষিত বাতাসে শ্বাস নেন এবং বায়ু দূষণের কারণে প্রতি বছর প্রধানত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে।
বিশ্বব্যাপী যেসব অসংক্রামক রোগে মানুষের সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটে, তার অধিকাংশই বায়ু দূষণজনিত। গবেষণা বলছে, সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের কয়েকটি শহরে, বিশেষ করে ঢাকার বায়ু দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেখানে বসবাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাযুদূষণের এইসব অতিক্ষুদ্র কণা সহজেই মানুষের চোখ-নাক-মুখ দিয়ে ঢুকে রক্তের সাথে মিশে যায় এবং ফুসফুস, হার্ট, কিডনি লিভার আক্রান্ত করে থাকে।
তবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রজনন স্বাস্থ্য। বিশেষ করে গর্ভপাত, জন্মগত ত্রুটি, শিশুর স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে বায়ু দূষণ বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব ফেলে বলে জানান চিকিৎসকরা।
সর্বশেষ আজ রবিবার ১৫ জানুয়ারি, ঢাকা শহর বায়ুদূষণে তালিকায় শীর্ষ স্থান দখল করেছে। এই প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ২৮৫ নিয়ে ঢাকার বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ অবস্থায় ছিল।
সাধারণত একিউআই স্কোর ১০১ থেকে ২০০ হলে সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ ধরা হয়। ২০১ থেকে ৩০০ একিউআই স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে মনে করা হয় এবং ৩০১ থেকে ৪০০ একিউআই স্কোরকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে। বাতাসের মান নির্ণয়ের জন্য একিউআই একটি সূচক।
বাংলাদেশে একিউআই নির্ধারণ করা হয় দূষণের পাঁচটি বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে। সেগুলো হলো- বস্তুকণা (পিএম১০ ও পিএম২.৫), এনও২,সিও,এসও২ এবং ওজোন (ও৩)।









