পরিবারের স্বচ্ছলতা আর দেশের অর্থনীতির চাকা সচল করতে একেকজন হতে চেয়েছিলেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বুক ভরা স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমাতে চেয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের নড়বড়ে অবস্থান আর সিস্টেমের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আজ তাদের ঠাঁই হয়েছে রাজপথে। জীবন থেকে মূল্যবান কয়েকটা বছর হারিয়ে আজ তারা দিশেহারা।
২০২২ এবং ২০২৩ সালে কঠোর পরিশ্রম করে ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং লটারিতে বিজয়ীদের স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। নিয়ম অনুযায়ী রোস্টারের মেয়াদ দুই বছর থাকলেও, অভিযোগ উঠেছে সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেল হাজার হাজার যোগ্য প্রার্থীর ফাইল মালিকদের প্যানেলে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলে কোনো সুযোগ না পেয়েই সিস্টেম থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ পড়েছেন তারা।
কোরিয়ান ভাষা শেখা আর দীর্ঘ সাধনার পর যখন তারা নির্বাচিত হয়েছিলেন, তখন চোখে ছিল আকাশছোঁয়া স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নই এখন তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক দিকে পুরনোদের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে নতুন সার্কুলারের তোড়জোড় এ যেন মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনাব মোঃ নুরুল হক জানান, প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম বা গাফিলতি প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করছি।
কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সাথে আলোচনা করে এই ‘ডিলিটেড’ প্রার্থীদের মেয়াদ বাড়ানোর উদ্যোগ কেন নেওয়া হচ্ছে না? দক্ষ ও যোগ্য এই প্রার্থীদের দীর্ঘশ্বাসের কি কোনো সমাধান নেই?






