সোনার হরিণ ধরার স্বপ্নে বুক বেঁধে হাজার মাইল দূরে পরবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন যশোরের সন্তান জিহাদ। ভেবেছিলেন নিজের ঘাম ঝরানো উপার্জনে হাসি ফুটবে দেশের মাটিতে থাকা প্রিয়জনদের মুখে, ঘুচবে পরিবারের অভাব-অনটন। কিন্তু সেই সব স্বপ্ন, আশা আর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের গল্প এক নিমিষেই থমকে গেল পর্তুগালের রাজধানী লিসবোনে।
পর্তুগালের লিসবনের এক নির্জন ঘরে ঘুমন্ত অবস্থাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছেন তরুণ এই প্রবাসী।
সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কাজ শেষে রাতে ঘুমোতে গিয়েছিলেন জিহাদ। পরদিন সকালে সহকর্মীরা তাকে কাজে যাওয়ার জন্য ডাকতে গেলে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কাছে যান এবং বুঝতে পারেন তাদের প্রিয় ভাইটি আর বেঁচে নেই। এক নিমেষেই সব রঙিন স্বপ্ন রূপ নেয় এক কঠিন ও নির্মম বাস্তবতায়।
জিহাদের এই অকাল মৃত্যুর খবর দেশের মাটিতে পৌঁছাতেই যশোরের নিজ বাড়িতে নেমে আসে অমাবস্যার অন্ধকার। স্বজনদের আহাজারি আর অঝোর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। যে ছেলের দেশে ফেরার কথা ছিল হাসিমুখে বিজয়ীর বেশে, সে এখন ফিরবে হিমশীতল কফিনবন্দি হয়ে। এক উদীয়মান তরুণের এভাবে চলে যাওয়া সহ্য করা যেকোনো পরিবারের জন্যই দুঃসহ।
লিসবনে অবস্থানরত জিহাদের সহপাঠী ও বাংলাদেশ কমিউনিটির প্রবাসীরা এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। জানা গেছে, বর্তমানে তাঁর মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে মরদেহ দেশে পরিবারের কাছে পাঠানোর জন্য লিসবনের প্রবাসী বাংলাদেশিরা জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।








