রাজনীতি

বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার রায় কার্যকর গণতন্ত্রের পথ নির্দেশক: জেপিবি

Justice Department's independence highlighted in Bangladesh news portal Channel i Online. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

জনতা পার্টি বাংলাদেশের বিৃবতি

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন ও পৃথক করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে ঐতিহাসিক, সুনির্দিষ্ট, কার্যকর ও বৈষম্যহীন গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণের এক গুরুত্বপূর্ণ পথনির্দেশক বলে প্রকাশ করেছেন জনতা পার্টি বাংলাদেশের (জেপিবি)  নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন এবং মহাসচিব শওকত মাহমুদ।

বৃহস্পতিবার ৪ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে তারা এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে তারা আরও জানান, তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের নির্দেশনা এই রায়ের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কালবিলম্ব না করে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন অরাজনৈতিক সরকারের উচিত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই বিচার বিভাগের ওপর সুপ্রিম কোর্টের পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করা। এই বহুল প্রত্যাশিত রায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া হীনতায় জনতা পার্টি বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন। কেননা ঐক্যমত্য কমিশনের বৈঠকগুলোতে বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সুপারিশমালা সম্পর্কে রাজনৈতিক নেতৃবৃদ্ধের তুলনামূলক উদাসীনতা লক্ষণীয়।

জনতা পার্টি বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, সংবিধানের ২২, ১০৭ ও ১০৯ অনুচ্ছেন এবং মাসদার হোসেন মামলার রায়ের নির্দেশনা উদ্‌ধৃত করে হাইকোর্ট এই রায়ে বলেছেন, পৃথক বিচার বিভাগ সাংবিধানিক অধিকার। ১৯৭৫ সালে চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে নির্বাহী বিভাগের কর্তৃত্ব আরোপ করা হয়েছিল। পঞ্চম সংশোধনীতে এক্ষেত্রে বিচার বিভাগের সঙ্গে পরামর্শের বিধান সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু বাস্তবে নির্বাহী বিভাগের চাওয়া-পাওয়া এবং দলবাজিই প্রাধান্য পেয়ে আসছিল। বিচারপতি নিয়োগ, অধঃস্তন আদালতগুলোর ওপর নিয়ন্ত্ৰণ ও বৈষম্যমূলক বিচার ব্যবস্থা তৈরি করেছিল। এরপর বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় প্রধান বিচারপতিকে হেনস্থা, মর্জিমত রায় বদল, ভিন্ন মতের রাজনীতিকদের ওপর জুলুম, দলীয় বিচারকদের মাস্তানি রাষ্ট্রে এক ভয়ানক অবস্থা তৈরি করেছিল। উচ্চ আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা, আনিসুল হক, খায়রুল হক ও শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকেরা বিচার অঙ্গনে নৈরাজ্য কায়েম করেছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন ও বৈষম্যহীন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় বিচার বিভাগও পল্লবিত হয়েছে। প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় সংকল্প। জনতা পার্টি বাংলাদেশ মনে করে, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বিচারিক পরিমণ্ডলকেও সেভাবে তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। এখনও বিচার বিভাগ দুর্নীতিমুক্ত বা স্বৈরাচারদের দোসরযুক্ত নয়। বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের ব্যবস্থা করা, বিচার প্রত্যাশী মানুষের স্বল্প ব্যয়ে বিচার পাবার পথ প্রশস্ত করা। বিচার অঙ্গনকে হয়রানি মুক্ত করা। সর্বোপরি বিচার বিভাগীয় সংস্কারের সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

বিষয়:গণতন্ত্র জনতা পার্টি বাংলাদেশ বিচার বিভাগ বিবৃতি

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…