এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বর্তমান পদ্ধতি বাতিল করে তুলনামূলক কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি চালুর দাবিতে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এ রায় দেন।
আবেদনে ফাঁসির পরিবর্তে শিরায় প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগ, গুলি করে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট করে বা গ্যাস চেম্বারের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো পদ্ধতি চালুর দাবি জানানো হয়েছিল।
তবে আদালত জানিয়েছে, তাদের এই রায় কেন্দ্রীয় সরকারকে বর্তমান মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা করা থেকে বিরত রাখবে না।
বেঞ্চ বলেছে, কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে বর্তমান পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে পারে। এর মাধ্যমে এমন কোনো বিকল্প পদ্ধতি আছে কি না, যা অপ্রয়োজনীয় কষ্ট কমানোর পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা করে সাংবিধানিক লক্ষ্য পূরণে আরও কার্যকর, তা যাচাই করা যেতে পারে।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বর্তমান পদ্ধতি আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে ২০১৭ সালে সিনিয়র আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা এই আবেদন করেছিলেন।
শুনানিতে তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে ফাঁসি অথবা প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মতো কোনো বিকল্প পদ্ধতি বেছে নেওয়ার সুযোগ অন্তত দেওয়া উচিত।
২০২৩ সালের মার্চে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে ফাঁসি আনুপাতিক ও কম যন্ত্রণাদায়ক পদ্ধতি কি না, তা যাচাই করতে বিশেষজ্ঞদের একটি কমিটি গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্যও চেয়েছিল আদালত।
তবে একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছিল, আইনসভাকে নির্দিষ্ট কোনো পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা আদালতের নেই।
২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার আইনি অবস্থান তুলে ধরে বলেছিল, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসিই বহাল থাকা উচিত। প্রাণঘাতী ইনজেকশন বা গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মতো বিকল্প পদ্ধতিকে কম যন্ত্রণাদায়ক বলা যায় না বলেও দাবি করেছিল সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের মাধ্যমে দাখিল করা পাল্টা হলফনামায় বলা হয়েছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যু ‘দ্রুত ও সরল’ এবং এতে বন্দির কষ্ট অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ে না।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বর্তমান পদ্ধতি আইন থেকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ করে আইন কমিশনের ১৮৭তম প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে করা জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) জবাবে ওই হলফনামা দেওয়া হয়েছিল।










