একটি প্রাণী, যে তার কষ্টের কথা বলতে পারে না। গরমে হাঁপিয়ে উঠলেও থামতে পারে না, ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়লেও থামার সুযোগ নেই। কারণ তার থেমে যাওয়া মানেই থেমে যায় একজন মানুষের জীবিকার চাকা।
সময় বদলেছে, বদলে গেছে ঢাকা। আধুনিক যানবাহনে ছেয়ে গেছে রাজধানীর সড়ক। অথচ পুরান ঢাকার ব্যস্ত রাস্তায় আজও মানুষের বোঝা টেনে চলছে ঘোড়া।
তীব্র যানজট, বিকট হর্ন, কালো ধোঁয়া আর অসহনীয় গরমের মধ্যে প্রতিদিনের এই পথচলা কতটা কষ্টের তার ভাষা নেই, প্রতিবাদও নেই। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান ঐতিহ্যের টমটমে মানুষের যাতায়াতের আড়ালে প্রতিদিনই যেন নিঃশব্দে কাঁদছে এই প্রাণীগুলো।
ঘোড়াটি হয়তো জানে না, কেন তাকে ছুটতে হচ্ছে। জানে না, গন্তব্য কোথায়। শুধু জানে থামা যাবে না। কারণ পেছনে আছে মানুষের জীবিকা। আর সামনে আরও একটি ব্যস্ত সড়ক, আরও একটি গাড়ি, আরও একটি বোঝা। পুরান ঢাকার রাস্তায় তাই ঘোড়ার খুরের টকাটক শব্দ শুধু ঐতিহ্যের গল্প বলে না। সেই শব্দের ভেতরে মিশে আছে ক্লান্তি, অসহায়ত্ব আর এক নির্বাক প্রাণীর কষ্ট। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান প্রতিদিন এই পথেই চলছে টমটম।
মাঝখানে সাত মাস বন্ধ ছিল চলাচল। আবারও সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফিরে এসেছে ঘোড়াগুলোও। কিন্তু প্রশ্ন রয়ে গেছে মানুষের যাতায়াত আর জীবিকার প্রয়োজনে একটি প্রাণীর এই কষ্ট কি আমাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না?






