চ্যানেল আই অনলাইন
হৃদয়ে বাংলাদেশ প্রবাসেও বাংলাদেশ

মৃত ঘোড়ার ছবিটি আমার মন অবশ করে দিয়েছে: জয়া

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণরোধে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো নিষিদ্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। এ অবস্থায় খাদ্য সংকটে পড়ে সৈকতে পর্যটকদের জন্য বিনোদন দেওয়া ঘোড়াগুলো। এতে করে মালিকদের পক্ষে ঘোড়াগুলোকে প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত খাবার জোগান দিতে না পেরে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে চলতি বছরে মারা গেছে বেশ কয়েকটি ঘোড়া।

আর মৃত ঘোড়াগুলোর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে চোখে পড়েছে বহু মানুষের। আলোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি প্রাণীকূলের প্রতি এমন অমানবিকতা নিয়ে হয়েছে সমালোচনাও। সংবাদমাধ্যমগুলোতেও গুরুত্বসহকারে এসেছে সমুদ্রসৈকতে ঘোড়ার অসহায় মৃত্যু। চোখ এড়ায়নি প্রাণীপ্রেমী হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসানেরও।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার নিজের ফেসবুক ও ফ্যান পেজে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালুতে পড়ে থাকা মৃত ঘোড়ার ছবি দিয়ে জয়া লেখেন ‘কক্সবাজারে মৃত ঘোড়ার ছবিটি আমার মন অবশ করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘ঘোড়ার এমন করুণ ছবি নেওয়া যায় না। এদের প্রখর অভিজাত সৌন্দর্যই ছোটবেলা থেকে আমাদের সবার মন ভরিয়ে রেখেছে। ঘোড়ার এমন অসহায় মৃত্যু মন অন্ধকার করে দেয়। কারোরই এমন মৃত্যু প্রত্যাশা করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘মানুষ হিসেবে আমরা একা একাই সভ্যতার পথ ধরে এগিয়ে আসিনি। প্রকৃতি আর প্রাণিজগতের অসামান্য সাহায্য না পেলে এ পথে আমরা এক পা–ও এগোতে পারতাম না।’

মানবিকতার প্রসঙ্গ টেনে জয়া জয়া বলেন, “এই ঘোড়াগুলো এতদিন আমাদের জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে জীবিকা দিয়ে আসছিল। করোনায় পর্যটকশূন্য কক্সবাজারে ওরা এখন হয়ে পড়েছে চরম দুর্ভাগা। পোষাতে না পেরে মালিকেরা ওদের ছেড়ে দিয়েছে। খাদ্যহীন হয়ে ওরা রাস্তায় পড়ে মরছে। যতদূর জানি, এসব প্রাণীকে খাদ্যহীন করে অসুস্থ করে লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়ার অধিকার আইন কাউকে দেয় না। কিন্তু আইন বা শাস্তির বাইরেও কি মানবিকতা বলে কিছু নেই?”

প্রশ্ন রেখে জয়া বলেন, “ঘোড়াগুলো কি আমাদের আরেকটু মনোযোগ, আরেকটু যত্ন পেতে পারে না? সমুদ্রসৈকতে পর্যটনের এই বাহকদের দেখার মতো কোনো কর্তৃপক্ষ নেই? কোনো অধিদপ্তর?”

স্ট্যাটাসের শেষে জয়া জানান, একদল ছেলেমেয়ে অবহেলিত ঘোড়াগুলোর জন্য উদ্যোগ নিচ্ছে। তাদেরকে আমার প্রাণঢালা ভালোবাসা। কারো দিকে না তাকিয়ে হৃদয়বান অন্য মানুষদেরও যুক্ত হতে অনুরোধ করি।