গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন করা জার্মান সেনাদল অবশেষে দেশে ফিরেছে। রোববার ১৮ জানুয়ারি এই সেনাদলটি গ্রিনল্যান্ড ত্যাগ করে জার্মানির উদ্দেশে রওনা হয়।
তবে বিশ্বজুড়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হঠাৎ করে সেনা প্রত্যাহারের এই ঘটনাকে কোনো ‘পিছুটান’ বা চাপের ফল হিসেবে মানতে নারাজ বার্লিন। জার্মান কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের ‘অভিযান শেষ’ হয়েছে বলেই তারা ফিরে আসছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেনমার্কের অনুরোধে পাঠানো জার্মান সামরিক বাহিনীর (বুন্ডেসভেয়ার) একটি ছোট দল গ্রিনল্যান্ডে অবস্থান করছিল।
রোববার ১৫ সদস্যের ওই দলটি বিমানযোগে প্রথমে আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক এবং পরে ডেনমার্কের কোপেনহেগেন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যায়।
জার্মান অপারেশনাল কমান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, এটি কোনো বড় আকারের বা স্থায়ী সেনা মোতায়েন ছিল না। এটি ছিল মূলত একটি ‘পরিস্থিতি যাচাইকারী’ (রিকনেসাঁ) মিশন। ডেনমার্কের আমন্ত্রণে ইউরোপীয় ন্যাটো মিত্রদের একটি সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে তারা সেখানে গিয়েছিল।
মূলত ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে বড় কোনো যৌথ সামরিক মহড়া চালানো সম্ভব কিনা, তা খতিয়ে দেখাই ছিল তাদের কাজ। এর মধ্যে ছিল গ্রিনল্যান্ডের চরম আবহাওয়া, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সৈন্যদের চলাচলের পথ এবং রসদ পরিবহনের সক্ষমতা যাচাই করা। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যতে সেখানে নৌ-নজরদারি বা অন্য কোনো সামরিক সহযোগিতার রূপরেখা তৈরি করা হবে। এই সেনা প্রত্যাহারের সময়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছেন। চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য বলে অভিহিত করেছেন।
এরই জেরে ডেনমার্কসহ আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এমন পরিস্থিতিতে জার্মান সেনাদের ফিরে আসাকে অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের ফল বলে মনে করছিলেন।
তবে জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘জেডডিএফ’ ও অস্ট্রিয়ার ‘ডাই প্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুন্ডেসভেয়ার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—এই ফিরে আসা অপরিকল্পিত নয়। তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব বা ‘অ্যাসাইনমেন্ট’ সফলভাবে শেষ হয়েছে বলেই তারা পরিকল্পনা মাফিক ফিরে এসেছে।
আপাতত গ্রিনল্যান্ড থেকে সেনা ফিরিয়ে আনলেও ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপের কড়া জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইউরোপীয় নেতাদের মতে, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ন্যাটোর কাঠামোর ভেতরেই নিশ্চিত করা সম্ভব, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন নেই।
জার্মান বাহিনী এখন তাদের সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করবে। এই বিশ্লেষণের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতে মেরু অঞ্চলে ন্যাটো মিত্রদের উপস্থিতির ধরন কেমন হবে।







