বাগেরহাটে পিত্তথলিতে পাথর অপারেশনের সময় নাছিমা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, অপারেশনের সময় হঠাৎ হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলে নাছিমার মৃত্যু হয়।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বাগেরহাট পৌরসভার পুরাতন বাজার সংলগ্ন পলি ক্লিনিকে এই ঘটনা ঘটে। নিহত নাছিমা আক্তার কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বারদাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সুমন সরদারের স্ত্রী।
পরিবার ও ক্লিনিক সূত্রে জানা গেছে, পিত্তথলিতে পাথর থাকায় সোমবার রাত ১১টার দিকে নাছিমাকে ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমারের তত্ত্বাবধানে তার অস্ত্রোপচার শুরু হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর অপারেশন চলাকালে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে স্বজনদের তার মৃত্যুর খবর জানানো হয়।
নাছিমার স্বামী সুমন সরদারের অভিযোগ, তারা ওই ক্লিনিকে অপারেশন করাতে চাননি। অপারেশনের আগে চিকিৎসক তাদের সেখানে রাখেন। স্ত্রীর মৃত্যুর পর তাকে এক লাখ টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাছিমার এক স্বজনের দাবি, অপারেশন থিয়েটারের পাশ থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গেলেও পরে রোগীর অবস্থা ভালো বলে জানানো হয়। ভোরে তাদের মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রতন অভিযোগ করেন, ওই ক্লিনিকে এর আগেও রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্লিনিকটির অপারেশন থিয়েটারের পরিবেশ ও অবকাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পলি ক্লিনিকের পরিচালক ডা. সুনীল কুমার। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই নাছিমার অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অপারেশনের সময় হঠাৎ তার হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং তিনি মারা যান। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অপারেশনের আগে সাধারণত রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি।
নাছিমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজনরা ক্লিনিকে জড়ো হন। এসময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে খবর পেয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন বলেন, রোগীর স্বজনদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


