মো: জালাল উদ্দিন, মৌলভীবাজার:মৌলভীবাজারে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করেই বোরো ধান আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। সকাল-দুপুর শীতে জবুথবু হয়ে মাঠে বোরো ধানের চারা রোপণের কাজ করছেন তারা। চারা রোপণের পাশাপাশি চলছে জমি তৈরির কাজও। তবে কপালে রয়েছে চিন্তার ভাজ। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিতে বেড়েছে সকল প্রকার খরচ। তাই নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষকরা।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বোরো ধানক্ষেতের মাঠ ঘুরে দেখা গেছে কৃষকদের ব্যস্ততার চিত্র।
স্থানীয় কৃষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বোরো ধান চাষে খরচ আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা না থাকায় চাষে দেরি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর উপজেলায় বোরো ধান চাষে চার হাজার ৬০২ হেক্টর জমিতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কয়েক বছর ধরে এ উপজেলার কৃষকেরা বোরো চাষে এগিয়ে এসেছেন।
উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার, শমশেরনগর, আলীনগর ও রহিমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, শীতের সকালে কুয়াশায় মধ্যে বিভিন্ন জাতের বোরো ধানের চারা রোপণ করছেন চাষিরা। অনেকে চারা রোপণের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। আবার অনেকেই চারা গাছে পরিচর্যা করছেন। তবে সেচ সংকট, সার ও তেলের দাম বাড়ায় অস্বস্তিতে ভুগছেন অনেক কৃষক।
রহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল আহাদ বলেন, ‘দুই বছর ধরে ২ একর জমিতে বোরো ধান আবাদ করছি। জমি প্রস্তুতি শেষে চারা রোপণ করছি। পর্যাপ্ত সেচের সুবিধা থাকলে আরও ২/৩ একর জমিতে বোরো চাষ করতাম।’
শমশেরনগর ইউনিয়নের কৃষক মজিদ মিয়া বলেন, তিন একর জমিতে এ বছর বোরো ধান চাষ করছেন। তেলের দাম বাড়ায় সেচ ও হাল চাষে খরচ অনেক বেড়েছে। আমন মৌসুমের মত বোরো মৌসুমে ধানের দাম থাকলে কৃষকেরা লাভবান হবেন বলেও আশা করছেন এ কৃষক।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ রায় বলেন, বোরো ধান আবাদ করার জন্য আমরা কৃষকদের সহযোগিতা করছি। এ উপজেলায় আগের তুলনায় বোরো চাষ অনেক বেড়েছে। আউশ, আমনের পাশাপাশি বোরো চাষে কৃষকেরা আগ্রহী হচ্ছেন। ধানের বাজারমূল্য ভালো থাকায় এবছর অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি আবাদ হবে।







