উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে তিস্তাসহ উত্তরাঞ্চলের নদীর পানি বেড়ে চর ও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লালমনিরহাটের তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কমপক্ষে ১৫ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। তবে কমতে শুরু করেছে কুড়িগ্রামের নদ-নদীর পানি।
প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুসারে উত্তরের বিভিন্ন জেলার বন্যার পরিস্থিতি
লালমনিটরহাট
লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে ভাটিতে থাকা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি নিয়ে উচুঁ স্থানে ঠাঁই নিয়েছেন অনেকে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।
জানা যায়, জেলার ৫ উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, আদিতমারীর মহিষখোলা পলাশী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, হাতীবান্ধা উপজেলার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, পাটিকাপাড়া, সিংগীমারী, সিন্দুর্না ইউনিয়নের বন্যাকবলিত মানুষের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্যাহ জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিতদের জন্য এরমধ্যেই শুকনা খাবারসহ ১শ ১০ মেট্রিক টন চাল, ৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা বন্যাকবলিতদের তালিকা করছেন, তালিকা পেলেই বন্যার্তদের ত্রাণ বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি কিছুটা কমলেও সার্বিক বন্যাপরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়ক ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। গত ৫ দিন ধরে নদীতীরবর্তী ও চর এলাকার ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। চারণভূমি ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফসলি জমি নিমজ্জিত থাকায় আমন বীজতলা, পাটসহ বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী, ৯ উপজেলার ৩ পৌরসভার ১শ ৮৫ গ্রামের ৬০ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হিসেবে বন্যাকবলিত মানুষের সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। বন্যাকবলিতদের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে ২শ ৭৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তিনশ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।







