নতুন এক প্রস্তাব নিয়ে হাজির ফিফা। ফুটবল বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্টের মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব তুলেছে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ কারণে উয়েফা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যার জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ফুটবল বিশ্ব।
মঙ্গলবার ফিফা পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আনে, বিশ্বকাপ ও অন্যান্য ইভেন্ট পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি সহায়ক সংস্থা তৈরি করা হবে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তারা নতুন ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) নামের সংস্থাটির সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার নিজেদের কাছে রাখবে এবং ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহের জন্য বহিরাগত বিনিয়োগকারীদের কাছে সংখ্যালঘু শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দেবে। এফএফই ছেলে ও মেয়েদের বিশ্বকাপের ভবিষ্যৎ সংস্করণসহ বাণিজ্যিক এবং ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব নেবে।
পরিকল্পনাটির উপর এখনও ফিফার ২১১টি সদস্য রাষ্ট্রের ভোটাভুটি প্রয়োজন। ফিফা বহুজাতিক আর্থিক পরিষেবা সংস্থা জেপি মরগ্যানের সাথে কাজ করছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে থাকবে থ্রাইভ ইটারনাল। যার প্রতিষ্ঠাতা জোশুয়া কুশনার, যার ভাই জ্যারেড কুশনার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা। ফিফা জানাচ্ছে, এর মাধ্যমে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ বিতরণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে, যা পরে ফিফার ২১১টি সদস্য সংস্থার মধ্যে পুনরায় বণ্টন করা হবে।
ফিফার প্রস্তাবনা সম্পর্কে কিছু গণমাধ্যম জানাচ্ছে, সংস্থাটি নতুন বাণিজ্যিক উদ্যোগের মূল্য প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের পর ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে মুনাফা করতে চাইছেন সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপ থেকে ফিফার রাজস্ব ১৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে, যা পূর্বের ১৩ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। এধরনের প্রবৃদ্ধি ইনফান্তিনোকে আরও সম্পদ অর্জনের জন্য উৎসাহিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কিন্তু ফিফা বলছে, প্রস্তাবটি খেলাটির প্রতি মানুষের প্রবেশাধিকার বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী অংশগ্রহণকে শক্তিশালী করতে তহবিল বৃদ্ধি করতে পারবে, এবং এর থেকে প্রাপ্ত সমস্ত নিট লাভ ফুটবলেই পুনঃবিনিয়োগ করা হবে। ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বিবৃতিতে বলেছেন, ‘ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা। খেলার কিছু অংশ সেই জনপ্রিয়তাকে অসাধারণ বাণিজ্যিক মূল্যে রূপান্তরিত করেছে। আমরা সেই সাফল্যকে উদযাপন করি ও চাই তা অব্যাহত থাকুক, কারণ এটি পুরো খেলাটিকে উন্নত করে।’
পরিকল্পনাগুলো প্রকাশিত হওয়ার সাথে সাথে উয়েফার পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে। ইউরোপের সংস্থাটি বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে আলোচনা করবে। চলতি সপ্তাহের মধ্যে তাদের ৫৫টি সদস্য সংস্থার সাথে জরুরি বৈঠক আয়োজনের চেষ্টায় রয়েছে ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফিফার পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদে উয়েফা বলেছে, ‘এটি এমন একটি সীমা লঙ্ঘন করে, যা ফুটবলের নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানগুলোর কখনোই করা উচিত নয়। উয়েফা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। প্রতিটি জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনেরও সেটাই করা উচিত। তেমনি প্রতিটি অংশীদারেরও লীগ, ক্লাব, খেলোয়াড়, সমর্থক, সরকার এবং যারা খেলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত, তাদেরও বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা উচিত। ফুটবলের আত্মা ও পরিচালনা ব্যবস্থা কেনাবেচার মতো কোন সম্পদ নয়। বিশেষ করে যখন আর্থিকভাবে কারা লাভবান হচ্ছে, সেবিষয়ে কোন স্বচ্ছতা নেই। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই। এটা বিক্রি করার অধিকার ফিফার নেই।’







