অস্কারের দৌড়ে ব্যতিক্রমী প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’

এলিজাবেথ হোমসকে নিয়ে নির্মিত তিন ঘণ্টার প্রামাণ্যচিত্র ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ বক্স অফিসে সাফল্য ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। এবার সেরা চলচ্চিত্রসহ অস্কারের একাধিক বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছে চলচ্চিত্রটি।
হলিউডে এখন আলোচনার কেন্দ্রে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’। তিন ঘণ্টার এই প্রামাণ্যচিত্র মুক্তির প্রথম সপ্তাহান্তে আয় করেছে দেড় কোটি ডলার। সীমিতসংখ্যক প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েও এমন সাফল্য ছবিটিকে অস্কারের দৌড়ে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
নাথান ফিল্ডার ও ল্যান্স ওপেনহেইম পরিচালিত ছবিটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান থেরানোসের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ হোমসকে কেন্দ্র করে নির্মিত। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে ১১ বছরের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন তিনি। হোমসের জীবন ও কর্মকাণ্ড অনুসন্ধান করতে গিয়ে নির্মাতারা বাস্তব ফুটেজের সঙ্গে মঞ্চায়িত দৃশ্যও ব্যবহার করেছেন। ব্যতিক্রমী এই নির্মাণশৈলী ছবিটিকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।
ছবিটির পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এ২৪ সেরা চলচ্চিত্র, সেরা পরিচালক, সেরা প্রামাণ্যচিত্র, সেরা সম্পাদনা, সেরা চিত্রগ্রহণ, সেরা প্রোডাকশন ডিজাইন ও সেরা পোশাক পরিকল্পনাসহ একাধিক বিভাগে ছবিটিকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামানোর পরিকল্পনা করেছে।
অস্কারের প্রায় ৯৮ বছরের ইতিহাসে কোনো প্রামাণ্যচিত্র সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পায়নি। ফলে ‘ইউ ক্যান সি এভরিথিং’ এই বিভাগে মনোনয়ন পেলে তা হবে ঐতিহাসিক ঘটনা। তবে মনোনয়ন পাওয়া আর পুরস্কার জেতা এক বিষয় নয়। ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’র মতো আলোচিত ছবির সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে হতে পারে এটিকে।
ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ অভিনেত্রী আমান্ডা সাইফ্রিডের উপস্থিতি। এর আগে ‘দ্য ড্রপআউট’ সিরিজে এলিজাবেথ হোমসের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। এই প্রামাণ্যচিত্রে নিজের পরিচয়ে হাজির হওয়ার পাশাপাশি পুনর্নির্মিত কিছু দৃশ্যে আবারও হোমসের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাইফ্রিড।
এ কারণে সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে তাকে মনোনয়নের জন্য প্রচারণা চালানোর পরিকল্পনা করছে এ২৪। তবে প্রামাণ্যচিত্রে বাস্তব উপস্থিতি ও অভিনীত দৃশ্যের মিশ্রণ থাকায় অভিনয় বিভাগে তার যোগ্যতা নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
ছবিটি সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে এবং দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। তবে এর দীর্ঘ দৈর্ঘ্য ও ব্যতিক্রমী উপস্থাপনা সবার কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি খাতের ধনকুবেরদের নিয়ে নির্মিত অন্যান্য ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতাও অস্কারের দৌড়কে কঠিন করে তুলতে পারে।
প্রামাণ্যচিত্রের জন্য অস্কারে আলাদা বিভাগ থাকায় এ ধরনের ছবিকে সেরা চলচ্চিত্রের মতো প্রধান বিভাগে জায়গা করে নিতে সাধারণত বাড়তি বাধার মুখে পড়তে হয়। তবে এ২৪-এর প্রচারণা, ছবিটির বাণিজ্যিক সাফল্য এবং নির্মাতাদের পরিচিতি সেই বাধা অতিক্রমে সহায়ক হতে পারে।
২০২৭ সালে অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস। এর আগে বিভিন্ন চলচ্চিত্র সংগঠনের পুরস্কার ও সমালোচকদের স্বীকৃতি ছবিটির অবস্থান আরও স্পষ্ট করবে। আপাতত সেরা চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও চূড়ান্ত ফলাফল সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। দ্য স্টেটসম্যান





