এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
আমিরুল ইসলাম, মায়ের চিকিৎসার জন্য ভারত যাবেন। এজন্য নিজের এবং মায়ের পাসপোর্ট নিয়ে দিলকুশার একটি মানি এক্সচেঞ্জে এসেছেন কিছু রুপি এবং ডলার কিনতে। কিন্তু কোথাও মিলছে না। যেখানেই যাচ্ছে ডলারের রেট জিজ্ঞেস করলেই বলছে: কিনবেন না বেচবেন? যখনই বলছেন কিনতে এসেছেন- সকলেই তাকে বলছে ডলার নেই। বিক্রি করলে ১১৭ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১১৯ টাকা রেট দিচ্ছে। কিনলে কত রাখতে পারবে জানতে চাইলে বলছে, ডলার নাই রেট দিবো কিভাবে!
দিলকুশার একটি মানি এক্সচেঞ্জে কর্মরত রণ মুস্তাফিজ অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন বিকালের পর আসলে ডলার পেতে পারেন আমিরুল। তবে একটি ফোন নম্বর দিয়েছেন, সেই নম্বরে আগে থেকে ফোন দিয়ে আসলে দোকানের বাইরে এসে ডলার দিয়ে যেতে চেয়েছেন রণ। কারণ হিসেবে বলেলেন, এখনও আমরা নির্ধারণ করতে পারিনি ডলার কত দামে বিক্রি করবো। আবার সকাল থেকে দোকানের আস-পাশে গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘোরাফেরা করছে। তারা বুঝতে পারছে না কে ক্রেতা আর কে গোয়েন্দা সংস্থার লোক। তাই আগে থেকে রেট দিয়ে ডলার বিক্রি করতে চাইছে না মানি এক্সচেঞ্জগুলো।
তবে রণ আমিরুলকে জানিয়েছেন বিকালের পর ডলার দেওয়া গেলেও সেটার রেট কোন ভাবেই ১২৫ টাকার কম হবে না।
রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা, পল্টন, ফকিরাপুল, সোবানাহবাগ, শ্যামলি এলাকার মানি এক্সচেঞ্জগুলো ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।
ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য বেড়ে যাওয়ায় অস্থিরতা দেখা দিয়েছে অন্যসকল বিদেশি মুদ্রার বিনিময়েও। এককথায় বেড়েছে সব ধরণের মুদ্রার দাম। মানি এক্সচেঞ্জগুলোতে আগে যেখানে ভারতীয় রুপীর বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য ১ টাকা ৪০ পয়সা ছিলো সেটা চাওয়া হচ্ছে ১ টাকা ৫০ পয়সা।
সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে মানি এক্সচেঞ্জগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে: গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক একলাফে ডলারের দাম বাড়িয়েছে ৭ টাকা। আগে ছিলো ১১০ টাকা। এরসঙ্গে ১ টাকা যোগ ও ১ টাকা বিয়োগ করে ক্রয় ও বিক্রয় করতে পারবে ব্যাংকগুলো। এর অর্থ হচ্ছে ডলারের সর্বোচ্চ দর হবে ১১৮ টাকা।
‘‘এখন খোলাবাজারে ডলারের দাম কত হয় তা দেখার অপেক্ষায় রয়েছে মানি এক্সচেঞ্জগুলো। কেউ আগ বাড়িয়ে দাম নির্ধারণ করতে চাইছে না। এমন পরিস্থিতেতে মার্কেট ডলার শূন্য হয়ে পড়েছে। তবে এ পরিস্থিতি সাময়িক, আজকালের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলছেন তারা।’’
এমন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের ব্যাংকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক। তিনি বলছেন: আমাদের খুচরা ডলারের মজুদ পর্যাপ্ত রয়েছে। সরবরাহও ঠিক আছে। মানি এক্সচেঞ্জ গুলো বিক্রি না করলে সেটা তাদের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। সেখানে ডলার না পেলে গ্রাহকরা ব্যাংকে যেতে পারে। ব্যাংকে গেলেই তারা ডলার কিনতে পারবে। ব্যাংকগুলোতে এখন ৫ কোটি ক্যাশ ডলার রয়েছে। যার ডলার দরকার সে ব্যাংকে যেতে পারে।
ক্রলিং পেগ কী:
ক্রলিং পেগ হচ্ছে দেশীয় মুদ্রার সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সমন্বয়ের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে একটি মুদ্রার বিনিময় হারকে একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে ওঠানামা করার অনুমতি দেওয়া হয়।
এক্ষেত্রে মুদ্রার দরের সর্বোচ্চ এবং সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা থাকে। ফলে একবারেই খুব বেশি বাড়তে পারবে না, আবার কমতেও পারবে না।
এ পদ্ধতিতে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম ক্রলিং পেগ মিড রেট (সিপিএমআর) নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ টাকা।
ফলে তফসিলি ব্যাংকগুলো সিপিএমআরের আশপাশে মার্কিন ডলার ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে এবং আন্তঃব্যাংক লেনদেন করতে পারবে।







