শত বছর পুরোনো লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি বাজার সংলগ্ন খালটিতে একসময় মহাজনি নৌকা চলাচল করলেও দূষণ ও দখলের কারণে বর্তমানে ময়লা-আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে খালটি।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামগতি বাজার খালের উপর প্রায় ৬ শতাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এসব দোকান ও মার্কেটগুলো ভাড়ায় চলে আসছে। প্রতি মাসে এসব দোকান থেকে কয়েক লাখ টাকা ভাড়া আদায় করছেন দখলদাররা।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এক সময় এ অঞ্চলের কয়েক হাজার কৃষকের জমির পানি খালটি দিয়ে মেঘনা নদীতে যেতো। কৃষকদের কৃষি জমির পানি নিস্কাশনের একমাত্র ভরসা ছিল এ খাল। অথচ, খালটির এক কিলোমিটার এলাকা দখলদাররা ভরাট করে ফেলায় বর্ষা এলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়।এতে কৃষকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ কারণে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটি পুনঃরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, রামগতি বাজার খাল নামে পরিচিত এই খালের উপর দিয়ে এক সময় স্টিমার চলাচল করতো। এমন বৃহৎ খালের ওপর দোকানপাট হওয়াতে পানি নিস্কাশনের জায়গা নেই। যে যার মত করে প্রতিবছর খালের অভ্যন্তরে দখল নিচ্ছে। ফলে বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে করে ব্যবসার পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়। দখলদারদের উচ্ছেদে প্রশাসনও কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না, অন্যদিকে খালটি সংস্কারও করা হচ্ছে না। বর্ষার সময় স্থানীয়ভাবে প্রশাসনকে জানালেও বর্ষার অজুহাত দেখান তারা। বর্ষা মওসুম চলে গেলে তাদের আর কোন খবর থাকে না। তাই এখন দ্রুত খালটির অস্তিত্ব রক্ষায় প্রশাসন অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খালটি সংস্কারের দাবী জানান তারা।
বাজারের ব্যবসায়ী জানান, “খালটি মজে যাওয়ার কারণে বাজারের পানি নামতে পারে না, ফলে অল্প বৃষ্টিতেও আমার দোকানে পানি ঢুকে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আমার দোকানের ভিতর দিয়ে পানি গড়িয়ে খালে প্রবেশ করে। বর্ষায় জলাবন্ধতা এড়াতে এখন শুকনো মৌসুমে খালটি সংস্কার করা খুবই জরুরি।”
বড়খেরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্যানেল-১ ও রামগতি বাজার উন্নয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পরেও খালের অবৈধ দখলদারদের বারবার সতর্ক করা হয়েছে। উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকেও একাধিকবার অবগত করা হয়েছে। কিন্তু উচ্ছেদ অভিযানও হচ্ছে না এবং খালও সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে বাজারে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, রামগতি বাজার খাল দখল করে নিয়েছেন, এমন ৬০০ জন দখলদারদের চিহ্নিত করে ইতোমধ্যে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, “শুধু রামগতি বাজার সংলগ্ন খালটি নয়, পুরো রামগতি উপজেলায় খালসহ সরকারী স্থাপনা অবৈধভাবে দখলদারদের চিহ্নিত করা হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে বিগত সময়েও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং আগামী দিনেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।”







