ধর্ম ও জীবন

তওবা কবুলের মৌলিক ৫ শর্ত

তওবা কবুলের মৌলিক ৫ শর্ত
অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

মানুষ ভুল করে, পাপেও জড়িয়ে পড়ে। কখনো জেনেশুনে, কখনো প্রবৃত্তির তাড়নায়। কিন্তু ভুলের পর অনুশোচনা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার সুযোগ ইসলামে সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ মুমিনদের আন্তরিকভাবে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার নাম নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অনুশোচনা, ভুল থেকে ফিরে আসা এবং নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা।

সুরা আত-তাহরিমের ৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো।’ আয়াতটিতে আন্তরিক তওবার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

ইসলামি পণ্ডিতদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তওবার কয়েকটি মৌলিক শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি বিষয় হলো—

১. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তওবা করা
তওবার প্রথম শর্ত হলো আন্তরিকতা। কোনো পাপের কারণে শুধু সামাজিকভাবে অপমানিত হওয়ার ভয় কিংবা পার্থিব ক্ষতি এড়ানোর জন্য নয়, বরং আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে ফিরে এসে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে তওবা করা উচিত।

তওবা হতে হবে অন্তরের সত্যিকারের প্রত্যাবর্তন। শুধু মুখে ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললেই তওবার সব শর্ত পূরণ হয় না; জীবনে পরিবর্তন আনার চেষ্টাও থাকতে হবে।

২. পাপের কাজ ছেড়ে দেওয়া
যে ভুলের জন্য তওবা করা হচ্ছে, সেই কাজ থেকে ফিরে আসা জরুরি। কেউ যদি কোনো অন্যায় করতে থাকেন, অথচ একই সঙ্গে সেই অন্যায়ের জন্য ক্ষমা চান, তাহলে তার তওবার আন্তরিকতা প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তাই তওবার সঙ্গে সঙ্গে পাপের কাজ বন্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। ভুলের দিকে নিয়ে যায় এমন পরিবেশ, অভ্যাস কিংবা সঙ্গ থেকেও দূরে থাকার চেষ্টা করা প্রয়োজন।

৩. অতীতের ভুলের জন্য অনুশোচনা করা
তওবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো নিজের ভুলের জন্য সত্যিকারের অনুশোচনা। কী অন্যায় করেছেন, কেন করেছেন এবং সেই কাজের মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশ অমান্য করেছেন এ বিষয়গুলো উপলব্ধি করে অন্তর থেকে অনুতপ্ত হওয়া জরুরি।

অনুশোচনা মানে শুধু কষ্ট পাওয়া নয়, নিজের ভুল স্বীকার করে তা সংশোধনের মানসিকতা তৈরি করাও এর অংশ।

৪. ভবিষ্যতে পাপ না করার দৃঢ় সংকল্প করা
তওবার সময় আন্তরিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে ওই পাপে আর ফিরে যাওয়া হবে না। এর অর্থ এই নয় যে মানুষ ভবিষ্যতে কখনো ভুল করতেই পারবেন না। বরং তওবার মুহূর্তে পাপটি আবার করার ইচ্ছা বা পরিকল্পনা রাখা যাবে না।

কেউ আন্তরিকভাবে তওবা করার পর দুর্বলতার কারণে আবার একই ভুল করে ফেললে তাঁর আগের তওবা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় এমন নয়। নতুন করে ভুল হলে আবার তওবা করতে হবে এবং পাপ থেকে বাঁচার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

৫. মানুষের অধিকার নষ্ট করলে তা ফিরিয়ে দেওয়া
কোনো পাপের সঙ্গে অন্য মানুষের অধিকার জড়িত থাকলে শুধু আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়াই যথেষ্ট নয়। যেমন—কারও টাকা আত্মসাৎ করা, সম্পদ নষ্ট করা কিংবা অন্যায়ভাবে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়া। এসব ক্ষেত্রে যথাসম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া বা প্রাপ্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।

আবার কারও সম্মানহানি বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত ক্ষতি করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্যায়ের প্রতিকার ও ক্ষমা চাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি মানুষের প্রতি করা অন্যায় সংশোধনের চেষ্টাও জরুরি।

আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না
পাপ যত বড়ই হোক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে কোরআন। সুরা আয-যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করা হয়েছে।

তবে তওবা পিছিয়ে না দিয়ে যত দ্রুত সম্ভব ভুল থেকে ফিরে আসা উচিত। তওবার মূল কথা হলো নিজের ভুল স্বীকার করা, তা ছেড়ে দেওয়া, অনুতপ্ত হওয়া এবং ভবিষ্যতে নিজেকে সংশোধনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া।

তথ্যসূত্র: পবিত্র কোরআন, সুরা আত-তাহরিম, আয়াত ৮; সুরা আয-যুমার, আয়াত ৫৩।

বিষয়:ইসলাম কোরআন তওবা শিক্ষা

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…