যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুয়ান্ডা ও গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআরসি) নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের আয়োজন করছেন। আজ বৃহস্পতিবার ৪ ডিসেম্বর এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
এই চুক্তির লক্ষ্য শুধু পূর্ব কঙ্গোর দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের অবসান নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ সম্পদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
জুন মাসে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হোয়াইট হাউসে এসে যে ওয়াশিংটন চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করেছিলেন, এবার সেটিকেই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করা হবে। সমঝোতা উদযাপনের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এই সংঘাতের অবসান বহুদিনের অপেক্ষা। এখন পূর্ব কঙ্গোতে আশা, শান্তি ও সমৃদ্ধির সময় এসেছে।
ওয়াশিংটনে উপস্থিত হয়েছেন কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স শিসেকেদি এবং রুয়ান্ডার প্রেসিডেন্ট পল কাগামে। ১৯৯৪ সালের রুয়ান্ডার গণহত্যার পর থেকে পূর্ব কঙ্গোতে সংঘাত চলছেই। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
রুয়ান্ডা-সমর্থিত বলে অভিযোগ থাকা এম২৩ বিদ্রোহীরা অভূতপূর্ব অগ্রগতিতে গোমা ও বুকাভুর মতো কৌশলগত শহর দখল করেছে। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মানবিক সংকট আরও বিস্তৃত হয়েছে—লক্ষ লক্ষ মানুষ ঘরছাড়া হয়ে পড়েছে।
এই শান্তি চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে- এম২৩-এর অস্ত্রবিরতি ও ক্ষমতা ত্যাগ, রুয়ান্ডা-বিরোধী মিলিশিয়া এফডিএলআর-এর সম্পূর্ণ নির্মূল। তবে এম২৩ এখন পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের মতে, ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার রুয়ান্ডার সৈন্য পূর্ব কঙ্গোতে মোতায়েন রয়েছে এবং তারা এম২৩-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রুয়ান্ডা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে—তাদের সব কার্যক্রম নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।
পূর্ব কঙ্গো বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিরল খনিজ- মৃত্তিকা, কোলটান, কোবাল্ট ও অন্যান্য খনিজ সমৃদ্ধ এলাকা। যুক্তরাষ্ট্র ওয়াশিংটন চুক্তির মধ্য দিয়ে এই সম্পদে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে চায়। কারণ বিশ্বের ৭০ শতাংশ বিরল খনিজের মধ্যে চীনের নিয়ন্ত্রণে ৯০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতাও তাদের হাতে। যা যুক্তরাষ্ট্রকে সরবরাহ সংকটের ঝুঁকিতে ফেলে, বিশেষ করে যুদ্ধবিমান, চিপস, ফোন ও অন্যান্য কৌশলগত প্রযুক্তি উৎপাদনে।
ঐতিহাসিক বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ঘোষণা করেছে—যেখানে চুক্তি স্বাক্ষর হবে সেই মার্কিন শান্তি ইনস্টিটিউট–এর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প পিস ইনস্টিটিউট।







