অর্থনীতি

নতুন বাজেটে থাকছে যেসব সুখবর

বাংলাদেশের বাজেট ২০১৬-১৭, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন. Channel i News - চ্যানেল আই নিউজ

বাজেট ২০১৬-১৭ এর প্রতীকী ছবি, যেখানে অর্থের ব্যাগ, সোনা ও বাজেটের বিষয়বস্তু দেখানো হয়েছে।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ

অডিও সংবাদএই খবরটি পডকাস্টে শুনুন

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ করদাতা, কৃষক, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি খাত, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের জন্য ব্যাপক কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্প সুরক্ষা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে একাধিক নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে আগামী ২টি অর্থবছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। তবে বিএনপি সরকারের এই মেয়াদের শেষ বছরে এটা হবে সাড়ে ৪ লাখ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্য যেমন- ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজের ওপর উৎসে করহার হমিয়ে শুন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিশুখাদ্যের দাম কমাতে এই শিল্পের কাঁচামালের আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির জন্য যেসব ছাড় বাজেটে

• গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিন এবং এর যন্ত্রাংশ আমদানিতে ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• উচ্চপ্রযুক্তির সিনেমাটোগ্রাফিক ক্যামেরা ও প্রজেক্টরের খুচরা যন্ত্রাংশ আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

শিল্পখাতে ছাড়ের ছড়াছড়ি

• ওয়াশিং মেশিন, ইলেকট্রিক ওভেন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন তৈরিতে অন্যতম প্রধান কাঁচামাল ফ্লোট গ্লাস আমদানিতে ৪৫ শতাংশ শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• এলপিজি সিলিন্ডার, অটো ট্যাংক এবং ভাল্ব ও বাং উৎপাদনকারী শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি ও শুল্ক অব্যাহতি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে।

• দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ট্রান্সফরমার আমদানিতে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং আরও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• স্থানীয় ওয়াশিং মেশিন আমদানিকে উৎসাহিত করতে আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাইসাইকেলের যন্ত্রাংশ ফ্রি হুইল আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং আরও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• কাগজ শিল্পের সুরক্ষায় গ্রিজপ্রুফ পেপার ও গ্লাসিন পেপার আমদানির ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ এবং আরও ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল বল ক্লেসহ ৫টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।

• মেইজ স্টার্চ শিল্পের সুরক্ষায় এর আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

• ডিটারজেন্ট উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল লিনিয়ার অ্যালকাইল বেনজিন আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ শুল্ক ধরা হয়েছে।

• কপারের তার আমদানিতে ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• কপার টিউব আমদানিতে শুল্ক ১৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।

• কোল্ড-রোল্ড এবং কোটেড কয়েল ও শিট উৎপাদনকারী শিল্পের প্রতিরক্ষণে কোল্ড-রোল্ড এবং কোটেড কয়েল ও শিট আমদানিতে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• দেশীয় ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনে প্রয়োজনীয় ৫টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে।

• দেশীয় মোটর উৎপাদনকারী শিল্পকে সুরক্ষা দিতে ১২০০ ওয়াটের চেয়ে কম ক্ষমতার ডিসি মোটর আমদানিতে ১০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• স্থানীয় পর্যায়ে টায়ার-টিউব শিল্পকে ২টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

• স্থানীয় স্কিন কেয়ার এবং সৌন্দর্যচর্চার পণ্য উৎপাদকদের জন্য ২টি কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

• কফিপানকারীদের জন্য সুখবর, স্থানীয় পর্যায়ে কফি প্রক্রিয়াজাত করতে কাঁচামাল হিসেবে কফি এক্সট্র্যাক্ট, সুগন্ধি ও প্রিপারেশন আমদানিতে ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• পলিস্টার ফাইবার শিল্পকে সুরক্ষা দিতে আমদানিকৃত পলিস্টার স্ট্যাপল ফাইবারে ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক বসানো হয়েছে।

• বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা আমদানিতে শুল্ককর রেয়াতি সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

• জুয়েলারি সেবার বিপরীতে ৫ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে ভরি প্রতি আড়াই হাজার টাকা ভ্যাট ধরা হয়েছে।

• স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে করহার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

ব্যাংক হিসাবে আবগারি শুল্ক বসানোর সীমা বাড়ানো হয়েছে

• ৩ লাখ টাকার বদলে ব্যাংক হিসাবে ৪ লাখ টাকা জমা থাকলে আবগারি শুল্ক বা এক্সাইজ ডিউটি কাটবে সরকার।

• একটি হিসাব থেকে বছরে একবার শুল্ক নেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে বাজেট প্রস্তাবনা

• সৌরবিদ্যুৎ খাতে করহার শূন্য করা হয়েছে।

• সৌরবিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

• সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উপকরণ আমদানিতে ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সব ধরনের শুল্ক এবং অগ্রিম কর শূন্য করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

তথ্য-প্রযুক্তি খাতে যত সুবিধার ঘোষণা

• মোবাইল ফোন, ফ্রিজ, এসি, ওয়াশিং মেশিন, এটিএম ও সিসিটিভি ক্যামেরা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন উৎসাহিত করতে কাঁচামাল ও উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক-কর ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

• কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস খাতের বিকাশে উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর অব্যাহতি ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

• কম্পিউটার প্রিন্টার, ডাটা প্রসেসিং মেশিন এবং মনিটর আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে।

• স্থানীয়ভাবে মোবাইল উৎপাদনে ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর ৫ ও ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে।

• সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বিকাশে উপকরণ আমদানিতে ১ শতাংশের অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং মূসক ও অগ্রিম কর অব্যাহতি সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।

• স্মার্টকার্ড, ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ড উৎপাদনে অত্যাবশ্যক ১০টি কাঁচামাল আমদানিতে ৫ শতাংশের বেশি শুল্ক থাকলে অতিরিক্ত শুল্ক অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

• মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা-খাতে উৎসে করহার ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে।

• শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে অগ্রিম করের সাধারণ হার ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হয়েছে।

• ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, সার্ভার, কম্পিউটার প্রিন্টার ও মনিটর আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক এবং ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• এসএসডি আমদানিতে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক থাকতে পারে, বাকি সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• ক্যাশলেস লেনদেন পয়েন্ট অব সেলস (পিওএস) মেশিন আমদানিতে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ এবং সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

কৃষিবান্ধব কর ও শুল্ক প্রস্তাবনা

• কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেশীয় উৎপাদকদের জন্য কীটনাশক ও বালাইনাশক উৎপাদনে ৩৬টি কাঁচামাল আমদানিতে মূসক পুরো উঠিয়ে শূন্য করা হয়েছে।

• স্থানীয়ভাবে জিংক সালফেট সার উৎপাদনে জিংক অ্যাশ আমদানিতে শূন্য শুল্ক করা হয়েছে।

• গবাদিপশুর জন্য ভেটেরিনারি মেডিসিন আমদানির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বদলে জেনেরিক পণ্য আমদানিতে শূন্য শতাংশ হারে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

• কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্ক ১ ও ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে অপ্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম আমদানি শুল্ক ১৫ শতাংশ হবে।

• আমদানিকৃত পাঙ্গাস মাছের ফিলেটে ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

• পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের খাদ্য উৎপাদনের কাঁচামালের তালিকায় আরও ৩টি পণ্য অন্তর্ভুক্ত করে শূন্য শতাংশ হারে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

• পোল্ট্রি ও ডেইরি শিল্পের যন্ত্রপাতি এবং যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে উপকরণ আমদানিতে শূন্য শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

• কৃষিতে ব্যয় কমাতে সার ব্যবসায়ীদের সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

• একই সঙ্গে কীটনাশক আমদানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ আগাম করও প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• দেশীয় তেলবীজ থেকে ভোজ্যতেল উৎপাদকদের ৫ বছর কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

• উচ্চমূল্যের হিমায়িত মাছ আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক বসানো হয়েছে।

• আমদানি হয়ে আসা গাছ বা গাছের অংশ কিংবা সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূসক বসানো হয়েছে।

কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ কমবে ৮০০ টাকা পর্যন্ত

কিডনি ডায়ালাইসিসের ফিল্টার আমদানিতে শুল্ক পনেরো শতাংশ এবং পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে কিডনি রোগীদের প্রতিবার ডায়ালাইসিস খরচ ৮শ টাকা পর্যন্ত কমবে। স্বাস্থ্যখাতে কিডনি ডায়ালাইসিসের ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ব্লাড টিউবিং সেট ফর হেমোডায়ালাইসিসের আমদানি পর্যায়ে সাড়ে সাত শতাংশ আগাম করও উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে কর ও শুল্ক বিষয়ক প্রস্তাবনা

চিকিৎসা যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শিল্পের বিকাশে অতি প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে পনেরো শতাংশ এবং অন্য কিছু কাঁচামাল আমদানিতে পাঁচ শতাংশ শুল্ক ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ করা হয়েছে।

দেশীয় ওষুধশিল্পের উদ্যোক্তারা যাতে বিশ্বমানের ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদন করতে পারেন সেজন্য কাঁচামাল আমদানির তালিকায় আরো ৯টি উপকরণ যুক্ত করে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট শূন্য করা হয়েছে।

ওষুধ শিল্পের এপিআই তৈরির নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করা হয়েছে।

ওষুধ রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রেয়াতি সুবিধার প্রজ্ঞাপনে আরো ১৭টি মৌলিক কাঁচামালকে অন্তর্ভুক্ত করে আমদানি শুল্ক শূন্য করা হয়েছে।

মৃতদেহ সংরক্ষণে মর্চুয়ারি আমদানিতে বিদ্যমান পঁচিশ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য উদ্যোগ

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের স্বাধীন চলাচলে ২১ ধরনের স্পেশাল অ্যাসিস্টিভ ডিভাইস আমদানিতে সব ধরনের শুল্ক এবং কর অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্নরা ব্যবহার করেন এমন ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়কর এক শতাংশ কমানো হয়েছে।

হার্টের রিংয়ের খরচ কমবে

হার্টের রোগীদের জন্য আমদানিকৃত রিং বা স্টেন্ট এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের যোগানদার পর্যায়ে দশ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে প্রতিটি রিং বা স্টেন্টের দাম প্রায় ২০ হাজার টাকা কমবে। চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের দাম কমবে প্রায় ৫ হাজার টাকা।

ইলেকট্রিক গাড়ি নিয়ে বাজেটে কর প্রস্তাবনা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট বাদে বিদ্যমান সব ধরনের শুল্ক-কর অব্যাহতি ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে করভার তিরানব্বই শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে করভার চৌষট্টি শতাংশ এবং ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত গাড়ির ক্ষেত্রে আশি শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে ২০০০ সিসি পর্যন্ত গাড়ি আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক কমানো এবং ১৮০০ সিসি পর্যন্ত রেগুলেটরি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি এবং গাড়ির যন্ত্রাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন উৎসাহিত করতে শুল্ককর রেয়াত দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। চার চাকা ও তিন চাকার বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের বডি তৈরি, ওয়েল্ডিং, পেইন্টিং এবং অ্যাসেম্বলিং করার মাধ্যমে উচ্চমূল্য সংযোজনকারীদের উপকরণ ও যন্ত্রাংশ আমদানিতে তিন শতাংশ শুল্ক বাদে সব ধরনের শুল্ক-কর মওকুফ করা হয়েছে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠান কম মূল্য সংযোজন করবে তাদের ক্ষেত্রে আমদানি শুল্ক হবে পনেরো শতাংশ। একইসাথে স্থানীয় ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক উৎপাদনকারী শিল্পের উপকরণ ও কাঁচামাল আমদানিতে পাঁচ শতাংশের বেশি ভ্যাট এবং অন্য সব শুল্ক-কর অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এসব সুবিধা ২০৩১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক এবং ইভি চার্জিং স্টেশন আমদানিতে উৎসে কর পাঁচ শতাংশ উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। একইসাথে চার্জিং স্টেশন ও চার্জার আমদানিতে করভার ঊনচল্লিশ দশমিক সাত পাঁচ শতাংশ প্রত্যাহার করে শূন্য শতাংশ করা হয়েছে। সকল ধরনের ইলেকট্রিক ভেহিকেল রেজিস্ট্রেশন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান অগ্রিম আয়করের পরিমাণ ২ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ক্যাপাসিটির ভিত্তিতে ২৫, ৫০, ৭৫ এবং ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। ডিজেল, পেট্রোল বা অকটেন চালিত গাড়ির আমদানি কমাতে ১২০০ থেকে ১৬০০ সিসির আইসি ইঞ্জিনের গাড়ির সামগ্রিক করভার একশ বত্রিশ দশমিক তিন ছয় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে একশ পঞ্চান্ন দশমিক আট আট শতাংশ করা হয়েছে। অন্য গাড়ির আমদানির ক্ষেত্রে করভার অপরিবর্তিত থাকছে। ইলেকট্রিক বাইক উৎপাদক এবং সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও উপকরণ আমদানিতে একই ধরনের সুবিধা দেওয়া হবে।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় করমুক্ত

কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় শতভাগ করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্টার্টআপ, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা হয়েছে। এসব উদ্যোক্তা এবং ফ্রিল্যান্সারদের ভ্যাট থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে পনেরো শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য সেবা আমদানিতে পনেরো শতাংশ ভ্যাট এবং স্থান ও স্থাপনা ভাড়ায় পনেরো শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই সুবিধা বহাল থাকবে ২০৩৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। কন্টেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার উপর বসানো পনেরো শতাংশ ভ্যাটও সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

মোবাইল সিমের কর প্রত্যাহার

প্রতিটি মোবাইল সিমের উপর বসানো ৩শ টাকা কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হবে ১২শ কোটি টাকা।

সিগারেটের দাম কতটা বাড়বে?

সিগারেটের ন্যূনতম খুচরা মূল্য নিম্নস্তরের জন্য প্রতি ১০ শলাকা ৬২ টাকা, মধ্যম স্তর ৯২ টাকা, উচ্চ স্তর ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তর ২১০ টাকা করা হয়েছে। প্রতি ১০ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ধরা হয়েছে ৫শ টাকা এবং সম্পূরক শুল্কহার চল্লিশ শতাংশ। হিটেড টোব্যাকোর ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শলাকার দাম ২১০ টাকা, সম্পূরক শুল্কহার সাতষট্টি শতাংশ। তামাকজাত পণ্য আমদানি কমাতে নিকোটিন গ্র্যানুলস এবং পাউচ আমদানি কমাতে নতুন এইচএস কোড সৃষ্টি করে সাড়ে তিনশ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বসানো হয়েছে।

আরও থাকছে যেসব সুবিধা

• বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীর কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর এক শতাংশ কমানো হয়েছে।

• রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার তিন শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে।

• বিআরটিসির প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফির ওপর প্রযোজ্য বিশ শতাংশ উৎসে কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• জাহাজ ও ড্রেজার প্রস্তুতকারী শিল্পের যন্ত্রাংশ এবং কাঁচামাল আমদানিতে বিদ্যমান রেয়াতি শুল্ক সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

• লিথিয়াম-আয়ন এবং সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ও ব্যাটারি প্যাক উৎপাদনে কর অবকাশ সুবিধা ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

• বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে যন্ত্রপাতি ভাড়া বাবদ অনিবাসী করদাতার জন্য উৎসে কর কর্তনের হার পনেরো শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত শতাংশ করা হয়েছে।

• নতুন শিল্প স্থাপনে বিনিয়োগ ব্যয় কমাতে বিদেশি ঋণের সুদের উপর উৎসে করহার বিশ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশ শতাংশ করা হয়েছে।

• ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক টার্নওভার হলে আয়কর শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।

• জনকল্যাণমূলক সেবাখাত যেমন হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের জন্য মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে আগাম কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

• ইটিপি পরিচালনায় প্রয়োজনীয় রাসায়নিক আমদানিতে শুল্ক অব্যাহতি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল রাখা হয়েছে।

• সব ধরনের মসলা আমদানিতে পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

• খেজুর আমদানিতে পাঁচ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিষয়:কর ছাড় বাজেট বাজেট ২০২৬-২৭

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…