উদ্বোধনী ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকেই বাদের শঙ্কা ছিল। আরব আমিরাতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জিতলেও চোটে স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ তিনজন ছিটকে যাওয়ার ধাক্কা সামলাতে হয়েছে। সবশেষে সব শঙ্কা দূরে ঠেলেছে লঙ্কানরা। নেদারল্যান্ডসকে ১৬ রানে হারিয়ে গ্রুপ-এ থেকে সবার আগে সুপার টুয়েলভে গেছে দাশুন শানাকার দল।
৩ ম্যাচে ২ জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ এ-র শীর্ষে আপাতত শ্রীলঙ্কা। তাদের রানরেট +০.৬৬৭। লঙ্কানদের সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ডাচরা, তাদের রানরেট অবনতি হয়ে এখন -০.১৬২।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে নামা নামিবিয়ার রানরেট +১.২৭৭। ২ ম্যাচে এক জয় পাওয়া দলটি আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জিতলেই ৪ পয়েন্ট জমাবে। সেক্ষেত্রে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই সুপার টুয়েলভে যেতে পারবে রানরেটে সবার থেকে এগিয়ে। নামিবিয়া হেরে বসলে পড়বে বাদ। তখন পরের পর্বে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পা রাখবে নেদারল্যান্ডস, আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে শ্রীলঙ্কা।
বৃহস্পতিবার জিলংয়ে টসে জিতে শুরুতে ব্যাট করা শ্রীলঙ্কা বোর্ডে ৬ উইকেটে ১৬২ রান জমায়। জবাবে নেদারল্যান্ডস ৯ উইকেটে ১৪৬ রানে থেমে যায়।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে উইকেট না হারালেও ৩৬ রানের বেশি তুলতে পারেননি লঙ্কানরা। সপ্তম ওভারে তাদের ব্যাটিং অর্ডারে লাগে জোড়া ধাক্কা। পাথুম নিশাঙ্কাকে ইয়র্কারে বোল্ড করে ফেরান পল ফন মিকেরেন। পরের বলেই ধনঞ্জয়া ডি সিলভাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন মিকেরেন, হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান। চারিথ আসালাঙ্কা অবশ্য এক রান নিয়ে হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেন।
৮ ওভারে ২ উইকেটে শ্রীলঙ্কার স্কোর ছিল ৪২ রান। পরে তারা বাঁচা-মরার লড়াইয়ে হাত খুলে খেলতে থাকে। তৃতীয় উইকেটে ৬০ রানের জুটি গড়ে চ্যালেঞ্জিং স্কোরের ভিত আনেন ওপেনার কুশল মেন্ডিস ও চারিথ আসালাঙ্কা। ৩১ বলে ৩ চারে ৩১ রান করা আসালাঙ্কা উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে জুটি ভাঙে।
ভানুকা রাজাপাকসেকে নিয়ে পরে ৩৪ রানের জুটি গড়েন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করা কুশল। তুলে নেন ফিফটি। ১৩ বলে ২ চারে ১৯ রান করা রাজাপাকসে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে চতুর্থ উইকেট জুটিও থামে।
অধিনায়ক দাশুন শানাকা এক ছক্কা মারলেও ৮ রানের বেশি করতে পারেননি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৫ চার ও ৫ ছক্কায় ৭৯ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন কুশল।
শেষ ১২ ওভারে ১২০ রান যোগ করে শানাকার দল। এশিয়ার চ্যাম্পিয়নরা শেষ ৫ ওভারে তুলে নেয় ৫৩ রান।
ডাচদের পক্ষে ৪ ওভারে ২৫ রান দিয়ে পল ফন মিকেরেন ২টি ও ৩ ওভারে ৩১ রান খরচায় বাস ডে লেডে ২ উইকেট নেন।
১৬৩ রানের লক্ষ্যে ডাচরা ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায়। মাহেশ থিকশানার বলে শানাকার হাতে ধরা পড়েন বিক্রমজিৎ সিং।
নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়া বাস ডে লেডে লঙ্কার বিপক্ষে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি। এক চার ও এক ছক্কায় ১০ বলে ১৪ রান করে কুশলের গ্লাভসে ধরা পড়েন। রানের খাতা না খুলেই ভানিডু হাসারাঙ্গার বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ড্রেসিংরুমে যান কলিন অ্যাকারম্যান। ৪৭ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে কমলা জার্সিধারীরা। পরে টম কুপার ১৫ ও অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস ২১ রানে সাজঘরে ফেরেন।
নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানো ডাচদের ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড একাই হাল ধরেছিলেন। ১২৩ রানে ৯ উইকেট হারানোর পরও তিনি ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন।
বিনুরা ফার্নান্দোর করা ১৮তম ওভারের প্রথম তিন বলে মারেন ছক্কা, চার ও চার। থিকশানার করা পরের ওভারে নেন ১৬ রান।
শেষ ওভারে নেদারল্যান্ডসের জয়ের দরকার পড়ে ২৩ রান। ৬ ওভারের বেশি না আসায় জয় নিয়ে এই গ্রুপ থেকে সবার আগে সুপার টুয়েলভে পৌঁছে যায় শ্রীলঙ্কা।








