ভূমিধস জয়ের পর প্রতিশ্রুতি পূরণে ডেমোক্র্যাটদের ওপর সমর্থকদের চাপ

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পাওয়ার পর ভোটারদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ওপর চাপ বাড়ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল যুদ্ধের অবসান চান দলটির সমর্থকেরা। এসব প্রতিশ্রুতি কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায়, তা নিয়ে নির্বাচনের পরদিন থেকেই কৌশল নির্ধারণে আলোচনা শুরু করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা।
বুধবার (৪ নভেম্বর) নিউজ ফ্রম দি স্টেটসের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
আগামী জানুয়ারি থেকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি তার বিচারক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড, যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান নিয়েও তদন্ত করতে পারবেন তারা।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদে ২৩৭টি আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২১৮ আসনের চেয়ে যা অনেক বেশি। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ২৯টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে দলটি। সিনেটেও সাতটি আসন নিজেদের দখলে নেওয়ায় স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থনসহ ডেমোক্র্যাটদের আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৪টিতে।
নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নবম মাসে গড়ানো এবং আমদানিপণ্যে ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্ক আরোপের কারণে পণ্য ও জ্বালানির দাম বেড়েছে। এসব পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেছেন ভোটারদের বড় একটি অংশ।
ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের (ইউএডব্লিউ) সভাপতি শন ফেইন বলেছেন, নির্বাচনী জয় তখনই অর্থবহ হবে, যখন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারবেন। তার ভাষায়, ‘এই নির্বাচন পরিবর্তনের পক্ষে জনসমর্থনের স্পষ্ট বার্তা। তবে এখন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির দায়িত্ব সেই প্রত্যাশা পূরণ করা। তারা ব্যর্থ হলে আমরাই প্রথম তাদের সমালোচনা করব।’
সিনেটে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার জানিয়েছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সরকারি দুর্নীতি দূর করা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। ট্রাম্প আইন অমান্য করলে তদন্ত, আইনি পদক্ষেপ ও নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তাকে চাপে রাখার কথাও বলেছেন তিনি। ইরান যুদ্ধ বন্ধে কংগ্রেসের অর্থ বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন শুমার।
প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিসও বলেছেন, ভোটাররা নীতিগত পরিবর্তন চান এবং নতুন কংগ্রেসের প্রথম দিন থেকেই তা বাস্তবায়নে কাজ করবে তার দল।
ডেমোক্র্যাটদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মেডিকেইডে সম্ভাব্য প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাটছাঁট বাতিল, স্বাস্থ্যবিমায় অতিরিক্ত কর-সুবিধা পুনর্বহাল এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে বেড়ে যাওয়া পণ্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন।
তবে দলের নেতারা মনে করছেন, নির্বাচনী জয়ই সব সমস্যার সমাধান নয়। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা গ্রেগ কাসার ও প্রতিনিধি প্রমিলা জয়াপাল বলেছেন, ভোটাররা সামান্য পরিবর্তন নয়, বরং বড় ধরনের সংস্কার চান। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই আগামী দুই বছরে ডেমোক্র্যাটদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।






