ফিলিপাইনে ক্ষয়ক্ষতির পর ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’

সোমবার উত্তর ফিলিপাইনের ইলোকোস সুর প্রদেশের সালসেডোতে সুপার টাইফুন রাগাসার আঘাত হানার পর, এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিপাইনের উত্তরাঞ্চলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘রাগাসা’ এখন দক্ষিণ চীন সাগর পেরিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে হংকং, তাইওয়ান ও চীনের মূল ভূখণ্ডের দিকে। ঝড়ের প্রভাবে এসব এলাকায় জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
হংকংয়ের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, টাইফুন রাগাসা বর্তমানে ঘণ্টায় ২২০ কিলোমিটার গতিবেগে বাতাস সৃষ্টি করছে। এটি হংকংয়ের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শহরের প্রধান নির্বাহী এরিক চ্যান।
তিনি বলেন, রাগাসা ২০১৭ সালের হাটো ও ২০১৮ সালের মাংখুট টাইফুনের মতো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি করতে পারে।
হংকং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন পর্যন্ত বিমানের সময়সূচিতে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটবে। ক্যাথে প্যাসিফিকের অন্তত ৫০০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তাইওয়ানের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, রাগাসার প্রভাবেই দেশের পূর্বাঞ্চলে ‘অত্যন্ত প্রবল বৃষ্টিপাত’ হতে পারে।
সংস্থাটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, টাইফুনটির কেন্দ্র এখনও দূরে থাকলেও, এর প্রভাব বিস্তৃত এবং ব্যাপক। প্রায় ৩২০ কিলোমিটার ব্যাসজুড়ে ঝড়ের শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ ইতোমধ্যে তাইওয়ানকে প্রভাবিত করছে।
চীনের শেনঝেন শহরে বন্যাপ্রবণ নিম্নাঞ্চল থেকে অন্তত ৪ লাখ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। শহরের বিমানবন্দর ঘোষণা দিয়েছে, মঙ্গলবার রাত থেকে সব ফ্লাইট স্থগিত থাকবে।
চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) টাইফুনটি গুয়ার্দং প্রদেশের শেনঝেন শহর ও জুয়েন কাউন্টির মধ্যবর্তী উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
ফিলিপাইনের কাগায়ান প্রদেশের বহু গ্রাম সোমবার রাগাসার তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগের দিন হাজার হাজার মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে রাস্তায় বিক্ষোভ করলেও সোমবার সরকার বাধ্য হয়ে রাজধানী ম্যানিলা ও ২৯টি প্রদেশে সরকারি কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে।
নর্থ লুজনের কালায়ান দ্বীপ এবং আপায়াও প্রদেশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। প্রবল বাতাসের কারণে কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ২৯৫ কিলোমিটার পর্যন্ত দমকা হাওয়া বয়ে যায়।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বাতাসের গতি বাড়ছে, সেই সঙ্গে বাড়ছে বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও।
রাগাসা চলতি বছরে ফিলিপাইনে আঘাত হানা ১৪তম ঘূর্ণিঝড়। এই ঝড়ের মধ্যেই দেশটিতে চলছে এক দুর্নীতি কেলেঙ্কারির তদন্ত, যেখানে ২০০ কোটি ডলারের মতো অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।






