আজ সুলতানের ১০৩তম জন্মবার্ষিকী।
তাই গভীর রাতে রং কে ছুঁয়ে দেখা ।
সুলতান বেঁচে থাকলে আমি তার সাথে কিছুদিন নড়াইল গিয়ে থাকতাম ,
চারুপীঠে গিয়ে বসে থাকতাম , অনেক কাক পাখিরা আসতো, তাদের নিয়ে গল্প করতাম ,,
সুলতান কে বলতাম কাকের ছবি আঁকতে ।
পেশিবহুল কৃষক আর তার মাথার উপরে একটা দাঁড়কাক, ঠিক এমন একটা ছবি এঁকে আমাকে দেখাতে বলতাম ।
আর এই ছবি আঁকার পুরোটা সময় আমি তার পাশে বসে থাকতাম।
চিত্রা নদীর তীরে গিয়ে সুলতান কে জিজ্ঞেস করতাম জীবনের অর্থ কী?
সুলতান তখন কি বলতো?
বলতো হয়তো জীবন মানে শোষণ নয় ,সহিংসতা নয় । জীবন মানে নড়াইল, চিত্রা নদী, শিশু, পশুপাখি আর আমার বাংলার সাধারণ মানুষেরা ।
জীবন মানেই ঈর্ষণীয় জনপ্রিয়তা নয়।
জীবন মানেই নিজের শিল্পকর্ম সংরক্ষণ নয়।
আমি আবারও বললাম সুলতান আমার জীবনের তো উত্তর মেলে না।
তখন সুলতান বলতো কেন তুমি জীবনের উত্তর খুঁজতে চাইছো ?
সুলতান আর আমি দুজনেই সিংহ রাশি
এ নিয়ে আমার গর্বের শেষ নেই ।
সুলতান আমার ছবি আঁকার প্রশংসা করতেন আমি নিশ্চিত।
আমি সুলতানকে আমার আঁকা বিড়ালের ছবি দেখাতাম, সে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থেকে আমাকে বলতো খুব ভালো হয়েছে।
সুলতানকে বলতাম – লোকে আমাকে পাগল বলে? আমার খুব কান্না পায়।
সুলতান খুব জোরে হাসতেন, তারপর বলতেন তোমার অনেক কাজ বাকি যাও পাতার গন্ধ নিয়ে আসো।
আমি তো সব গাছের গন্ধ নিতে চাই, কিন্তু লোকে কী বলবে? এই ভেবে কখনো গাছের গন্ধ নিতে যাইনি।
সুলতানের পায়ে ধরে বলতাম-আমি আর বাসায় যাবো না।
সুলতান আমাকে বলতো- তুমি হারিয়ে যাও এমন কোথাও যেখানে একমাত্র কাকই হবে তোমার সঙ্গী।








